ঢাকা | শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬,৭ কার্তিক ১৪৩৩

‘আট স্তম্ভ’ উদ্বোধনের আমন্ত্রণ নিয়ে বিতর্ক, নুরের ক্ষোভ

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদের ষষ্ঠ শাহাদাত বার্ষিকীতে আজ উদ্বোধন হতে যাচ্ছে ‘আগ্রাসনবিরোধী আট স্তম্ভ’। ‘আট স্তম্ভ’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের অতিথি আমন্ত্রণ নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।

এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ডাকসু সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর। তিনি ডাকসুর সলিমুল্লাহ মুসলিম হল সংসদের জিএস সামাদ আব্দুল্লার একটি ফেসবুক পোষ্ট শেয়ার করে লেখেন, পোস্টারটি দেখে রীতিমতো অবাক হয়েছি আর ভাবছি যে যায় লঙ্কা সেই হয় রাবন!

২০১৯ সালে ছাত্রলীগের নির্মম নির্যাতনে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার পর সে সময়ে যখন ছাত্রলীগ ও সরকারপন্থী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের চাপে বুয়েট শিক্ষার্থীরাও আন্দোলন করা নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দে তখন ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীসহ আমি, ছাত্র ফেডারেশনের উমামা, শামসুন্নাহার হলের ভিপি ইমি, এজিএস ফাতেমাসহ কয়েকজন মিলে মিছিল নিয়ে বুয়েটের দিকে যাই যেন বুয়েট শিক্ষার্থীরাও সাহস।

মিছিল শুরু হলে ছাত্রদলের কানেতাসহ অনেকেই যোগ দেয়।

১৯ পরবর্তী ২০, ২১, ২২, ২৩ সালেও ছাত্র অধিকার পরিষদ পরিষদ ব্যতীত অন্য কোন সংগঠন আবরার ফাহাদ স্মরণে ‘বাই নেমে ‘ কোন কর্মসূচি করেছে বলে আমার জানা নেই। ২০২২ সালে টিএসসিতে আবরার ফাহাদ স্মরণে প্রোগ্রাম করতে গিয়ে ছাত্র অধিকার পরিষদের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী ছাত্রলীগের হামলার পাশাপাশি গ্রেফতারও হয়।

আর ২৪ পরবর্তী ডাকসুর আয়েজনের প্রোগ্রামে সে সময় তথা আবরার ফাহাদকে আগ্রাসন বিরোধী আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে যারা ছাত্রলীগের হামলায় রক্তাক্ত হয়েছে, কারাগারে গিয়েছে তারা নেই!

নুর আরও লিখেন, ডাকসু নেতৃবৃন্দ কি তাহলে বিকৃত ইতিহাস বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে? ডাকসু’র নেতৃবৃন্দের এমন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ইতিহাস বিকৃতির ঘৃণ্য মানসিকতার ধিক্কার জানাই।

ডাকসুর সলিমুল্লাহ মুসলিম হল সংসদের জিএস সামাদ আব্দুল্লা তার ভেরিফাইড ফেসবুক পোষ্টে ডাকুস কতৃক আয়োজিত অতিথিদের একটি তালিকা শেয়ার করে গত কাল রাতে লেখেন ডাকসুর হল সংসদের একজন জিএস এর অবস্থান থেকে বলছি, ডাকসু কর্তৃক আয়োজিত আগামীকালকের প্রোগ্রামে অতিথি নির্বাচন পুরোপুরি যথাযথ হয়নি।

শহীদ আবরার ফাহাদ হত্যাকান্ডের পরে ক্যাম্পাসে সবচেয়ে বেশি প্রতিবাদ করেছে ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা। এ বিষয়ে কেউ দ্বিমত করতে পারবে না, কারণ ফ্যাসিবাদের রক্তচক্ষুর সামনে যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশিবার দৃশ্যমান প্রতিবাদ করেছে এই দল। এমনকি ২২ সালে ৭ই অক্টোবর শহীদ আবরার ফাহাদের বিদ্রোহী আত্মার স্মরণে আগ্রাসনবিরোধী প্রতিবাদ করতে গিয়ে ছাত্রলীগের সরাসরি হামলার স্বীকার হয় এবং জেলজুলুম সইতে হয় এই দলের নেতাকর্মীদের।

নুর উল্লেখ করেন, আখতার ভাইকে রাখলেও আখতার ভাইয়ের রাজনৈতিক পদবি ব্যবহার করেনি। অথচ সাবেক শিবির ও বর্তমান শিবিরের পরিচয়ের পাশাপাশি তাদেরকে ভিকটিম হিসেবে উপস্থাপন করলেও আখতার ভাইয়ের বেলায় তার বর্তমান রাজনৈতিক পরিচয়টুকুও দেয়নি।

ফ্যাসিবাদ পতনের পর যখন স্বাধীনভাবে বিনা বাধায় শহীদ আবরার ফাহাদের চেতনাকে স্মরণ করে প্রোগ্রাম করা হচ্ছে, তখন অন্তত সেই সময়কার আগ্রাসনবিরোধী সেই অকুতোভয় সৈনিকদের আমন্ত্রণ জানাতে পারতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। এইধরণের প্রোগ্রাম আমন্ত্রণের ক্ষেত্রেও বলা যায় কিছুটা ‘বায়াসনেস’ লজ্জাজনক।

উল্লেখ্য, বুয়েট শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদের ষষ্ঠ শাহাদাত বার্ষিকীতে আজ উদ্বোধন হতে যাচ্ছে ‘আগ্রাসনবিরোধী আট স্তম্ভ’।

মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) বিকাল ৩ টায় রাজধানীর পলাশী মোড়ে এই স্মারক স্থাপনা উদ্বোধন করবেন আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ।

আবরার ফাহাদ স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে আয়োজিত এ স্মরণসভা ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন আট স্তম্ভের স্বপ্নদ্রষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন।

২০২০ সালের ৭ অক্টোবর, আবরারের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে একই স্থানে ছাত্র অধিকার পরিষদের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো ‘আগ্রাসনবিরোধী আট স্তম্ভ’ নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে নির্মাণের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন সেটি ভেঙে ফেলে।