ঢাকা | বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬,১১ আষাঢ় ১৪৩৩

হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের অধীনে মন্দির ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা জোরদার: ধর্মমন্ত্রী

দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা ও নৈতিক শিক্ষার প্রসারে হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের অধীনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন (কায়কোবাদ) এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, বর্তমানে সারাদেশে ৭ হাজার ৪০০টি মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম এবং পুরোহিত-সেবাইত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু রয়েছে।

সংসদে গাইবান্ধা-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজেদুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী বলেন, হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের অধীনে ‘মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম’ বর্তমানে ষষ্ঠ পর্যায়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই প্রকল্পের বর্তমান মেয়াদের শেষ সময় আগামী ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রোকেয়া বেগমের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরও জানান, এই প্রকল্পের আওতায় ৭ হাজার ৪০০টি কেন্দ্র পরিচালনা করার পাশাপাশি পুরোহিত ও সেবাইতদের দক্ষতার জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।

সংসদ অধিবেশনে হিন্দুধর্মীয় বিষয়ের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মের অগ্রগতি এবং বিভিন্ন সমসাময়িক বিষয়েও তথ্য তুলে ধরেন ধর্মমন্ত্রী।

ঢাকা-৪ আসনের সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীনের প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী বলেন, মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পের শিক্ষকদের মাসিক সম্মানী বর্তমানে ৬ হাজার টাকা। প্রকল্পের ডিপিপি অনুযায়ী ধাপে ধাপে তা বৃদ্ধি করে ২০২৯-৩০ অর্থবছরে সাড়ে ৭ হাজার টাকা করা হবে।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, সরকারের কাছে দেশে কর্মরত ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান নেই। তবে ২০২০ সালের হিসাব অনুযায়ী, দেশে ৩ লাখ ৩১ হাজার ১২৫টি মসজিদ রয়েছে। সেই হিসেবে ইমাম ও মুয়াজ্জিনের সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ ৬২ হাজার ২৫০ জন হতে পারে। এর মধ্যে নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী ১২ হাজার ৮১০ জন ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমকে মাসিক সম্মানী ভাতার আওতায় আনা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম খানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ‘প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন’ প্রকল্পের আওতায় দেশে মোট ৫৬৪টি মডেল মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ৩৪২টির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে এবং ১৮৬টির কাজ চলমান। অবশিষ্ট মসজিদগুলোর নির্মাণ ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

কক্সবাজার-৩ আসনের সদস্য লুৎফুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে বাংলাদেশ থেকে ৮ হাজার ৬০০ জন কম হজযাত্রী সৌদি আরবে গেছেন। চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালন করেছেন।

কুমিল্লা-৪ আসনের সদস্য মো. আবুল হাসনাতের প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী বলেন, অ-তালিকাভুক্ত ওয়াকফ সম্পত্তি তালিকাভুক্তকরণ, আদালতে মামলা এবং ওয়াকফ অধ্যাদেশ, ১৯৬২-এর ৬৪ ধারার আওতায় জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করে উদ্ধার করা সম্ভব। গত এক বছরে অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে ১৫১ দশমিক ১৭৯৫ একর ওয়াকফ সম্পত্তি উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে হাসনাতের প্রশ্ন অনুযায়ী গত এক বছরে সরকারি তালিকাভুক্ত ওয়াকফ সম্পত্তি ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দেবোত্তর সম্পত্তির কতটুকু বাস্তবে উদ্ধার করা হয়েছে, সে বিষয়ে মন্ত্রী নির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান দেননি।