ঢাকা | বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬,৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

মায়ের মরদেহ ফেরত পেতে ‘কান ধরে ওঠবস’ করলেন ছেলে

রোগীর মৃত্যু ঘিরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দিনভর চলে উত্তেজনা, বিক্ষোভ ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। চিকিৎসকদের সঙ্গে হাতাহাতির অভিযোগের পর মায়ের মরদেহ ফেরত পেতে মৃতের ছেলে রিফাত হোসেনকে কান ধরে ওঠবস করতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।

স্বজনরা বলছেন, অক্সিজেন না দেওয়ায় রোগী মারা গেছেন। এনিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। তবে চিকিৎসকদের অভিযোগ, রোগীর মৃত্যুর পর দুই চিকিৎসকের ওপর হামলা ও মারধর করেছেন রিফাত হোসেন।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিনভর পাল্টাপাল্টি অভিযোগে উত্তপ্ত ছিল রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। হামলাকারীদের শাস্তির দাবিতে রোগীর মরদেহ আটকে রেখে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা বিক্ষোভ করেন। অন্যদিকে মরদেহ হস্তান্তরের দাবিতে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ করে মৃতের স্বজনরা।

স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনার পর নিজেদের অবহেলার অভিযোগ এড়াতে হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা মরদেহ আটকে রাখেন। শুধু তাই নয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা নানা অজুহাত আর দাবি তুলে মরদেহ হস্তান্তরে বিলম্ব করে। এক পর্যায়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মৃতের ছেলে রিফাত হোসেন উপস্থিত হলে তাকে কান ধরে ওঠবস করানোর পর তার মায়ের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানিয়ে রোগীর স্বজন ও ছেলেরা মরদেহ নিয়ে হাসপাতাল ছেড়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পর ইন্টার্ন চিকিৎসকসহ হাসপাতালের অনেকেই রিফাত হোসেনের কান ধরে ওঠবস করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করে, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

শনিবার (১৩ জুন) দুপুর সোয়া ২টার দিকে হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ ছিল।

রোগীর স্বজন ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, নগরীর জুম্মাপাড়া এলাকার নূর নাহার বেগমকে শনিবার ভোরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগে ভর্তি করা হয়। ভর্তির কিছু সময় পর তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় চিকিৎসকদের অবহেলার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তার ছোট ছেলে রিফাত হোসেন। একপর্যায়ে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে স্বজনদের কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।