ঢাকা | বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬,৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

পদ্মার মতো তিস্তা ব্যারাজও নির্মাণ করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

পদ্মার মতো সরকার তিস্তা ব্যারাজও নির্মাণ করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার বিকেলে গাজীপুরের সাতাইশে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে সুধী সমাবেশে তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আপনাদের সকলের সামনে আজকে আমি পরিষ্কার একটি কথা বলে যাই, ইনশাল্লাহ এই বিএনপি সরকার পদ্মা ব্যারাজের কাজেও হাত দেবে। ইনশাল্লাহ তিস্তা ব্যারাজের কাজেও হাত দেবে।

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতি ইঙ্গিত করে বলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা বড় বড় কথা বলছে- তাদের উদ্দেশে পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, এই যে আজকে এখানে দুর্যোগমন্ত্রী (আসাদুল হাবিব দুলু) বসে আছেন এই লোকটার নেতৃত্বেই তিস্তায় বিএনপি কর্মসূচি পালন করেছে যা বাংলাদেশে অন্য কোনো রাজনৈতিক দল করে নেই। তারা হয়ত বড় বড় কথা বলেছে, গরম গরম কথা বলেছে। কিন্তু কাজ যদি কেউ করে থাকে, ডেলিভারি যদি কেউ থাকে, পরিস্থিতি যদি কেউ তৈরি করে থাকে সেটা বিএনপিই করেছে, ইনশাল্লাহ বিএনপি সেটা করবে।

পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ জরুরি তার ব্যাখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা নিশ্চিত পত্রিকায় দেখেছেন কয়েকদিন আগে আমরা একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি উত্তরাঞ্চল, দক্ষিণাঞ্চলে বিশেষ করে রাজশাহীতে আমরা পদ্মা নদীর সাথে পদ্মা ব্যারাজ তৈরি করব। পদ্মা ব্যারাজ এজন্য আমরা তৈরি করব যে সীমান্তের ওপারে তারা ব্যারাজ তৈরি করার মাধ্যমে বিভিন্নভাবে পানি তারা নিচ্ছে। কিন্তু আমাদের কাছে যে পানিটি আসছে শুকনো মৌসুমে হয়ত আমরা কম পাচ্ছি। যার ফলে যেটা হচ্ছে পানিতে নদীতে পানি স্রোত কমে যাওয়ার ফলে অনেক সমস্যা হচ্ছে। আস্তে আস্তে আশপাশগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। আপনারা নিশ্চয়ই দেখেছেন ছোটবেলায় আমরা দেখেছি পদ্মা নদীর এপার থেকে ওপার দেখা যায় না। এখনো দেখা যায় না। তবে তখন পানি ছিল এখন পানি শূন্য। কেনো আমরা পদ্মা ব্যারাজটি করতে চাচ্ছি?

তিনি বলেন, পদ্মা ব্যারাজটি আমরা এজন্য করতে চাচ্ছি যে বর্ষা এবং শুকনো মৌসুমে বলুন যখনই হোক আমাদের দেশের মানুষ কৃষকই হোক বা যেকোনো মানুষ হোক তারা যাতে পানি পায়। আরেকটা বিপজ্জনক ব্যাপার হচ্ছে, এই ফারাক্কা বাদ হওয়ার কারণে যেটি হচ্ছে ধীরে ধীরে যেহেতু পানির পরিমাণ কম… সেজন্য ধীরে ধীরে যেটি হচ্ছে সমুদ্রের পানি দক্ষিণ অঞ্চলে ঢুকছে। ফলে সুন্দরবনসহ ওই সকল অঞ্চলে যেই সমস্যাগুলো হচ্ছে তা নোনতা পানি বেশি পরিমাণে ভিতরে চলে আসার কারণে গাছপালা নষ্ট হয়, বিভিন্ন পশু বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। আমরা যদি সেই প্রেসারটাকে রাখতে চাই- আমাদের ব্যারাজটা নির্মাণ করতে হবে এবং ব্যারাজের মধ্যে আমরা পানি ধরে রাখবো। যখন বাড়তি পানি বর্ষার মৌসুমে যে পানিটা আসে সেই পানিটি আমরা ধরে রাখতে পারব। যাতে করে সেই পানিটি আমরা আমাদের মানুষের জন্য কাজে ব্যবহার করতে পারি। সেই পানিটিকে আমরা আরো যাবতীয় কাজে ব্যবহার করতে পারি।