সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির দায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মন্ত্রীরা ব্যর্থতা স্বীকার করে পদত্যাগ করলেও আমাদের মন্ত্রীরা দায় চাপানোর রাজনীতি করে। এসময় তিনি পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যাকে মানবতার নিকৃষ্ট একটি উদাহরণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, রামিসা হত্যায় পুরো জাতি ব্যথিত হলেও আমাদের ‘সর্বমন্ত্রী’ সালাহউদ্দিন ব্যথিত নয়!
বুধবার বিকেলে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘রাজধানীতে শিশু রামিসাকে নৃশংসভাবে হত্যা, সারাদেশে খুন, ধর্ষণ, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির প্রতিবাদে ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়।
বিএনপি নেতাদের যৌন লালসায় দেশের নারী-শিশুর জীবন হুমকির মুখোমুখি বলে মন্তব্য করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, যখন বিএনপি নেতার জন্য কম বয়সী মেয়ে ব্যবস্থা রাখার অডিও নির্দেশনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়, তখন বুঝতে আর বাকি থাকে না, এই সরকারের নারী-শিশু কেউ নিরাপদ নয়। এই ঘটনায় সরকারের পক্ষ থেকে আইনগত এমনকি বিএনপি দলীয়ভাবেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
তিনি বলেন, সারাদেশে খুন, ধর্ষণ, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি করে যাচ্ছে সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা। এসব অপরাধের নিয়ন্ত্রণে বা দমনে সরকারের কোনো অভিযান বা পদক্ষেপ নেই। ফলে সামাজিক অপরাধ বেড়েই চলছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি বজায় থাকলে সামাজিক অপরাধ প্রবনতা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না।
অতীতের সরকারের ব্যর্থতার বুলি দিয়ে নিজেদের ব্যর্থতা ঢেকে রাখা যাবে না উল্লেখ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, মানুষের অস্তিত্বে আঘাত লাগলে সরকারের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে। নিরীহ মানুষকে উচ্ছেদ করতে গিয়ে পুলিশ সদস্যরা যেভাবে দৌঁড়ে পালিয়েছে, জনগণের মতের বিরুদ্ধে গেলে সরকারকেও দৌঁড়াতে হতে পারে। তাই জনগণের মতামত মেনে নিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহনগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপির পরিচালনায় এতে আরো বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন, দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান প্রমুখ। এ ছাড়া মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নিকৃষ্ট অসভ্যতার উদাহরণ। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ৩ মাসের মধ্যে লোমহর্ষক অনেক ঘটনা ঘটলেও সরকার আইনশৃঙ্খলার উন্নতির জন্য কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। যার ফলে নারী-শিশু নিপীড়ন প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে।
তিনি বলেন, বিএনপি নেতার জন্য যখন ১৫/১৬ বছরের শিশু কন্যাদের সাপ্লাই দিতে হবে বলার পরও সরকার কোনো ব্যবস্থা নেয়নি তখন এই সরকারের কাছে নারী-শিশু নিরাপদ বিশ্বাস করা যায় না। প্রতিটি হত্যাকাণ্ড, ধর্ষন, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীরা সরাসরি জড়িত। দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির জন্য সরকারকে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করতে তিনি আহ্বান জানান।
সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেইট থেকে শুরু হয়ে গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট-পল্টন মোড় প্রদিক্ষণ করে বিজয়নগর মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।





