ঢাকা | বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬,৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সম্প্রচার বন্ধ না করলে সাংবাদিকদের তালাবদ্ধ করার হুমকি

আজ (০১ ডিসেম্বর) সোমবার বিকেলে রাজশাহী পর্যটন মোটেলের সম্মেলন কক্ষে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা সোয়েব আহমেদ সাংবাদিকদের সরাসরি সম্প্রচার বন্ধ না করলে সবাইকে তালাবদ্ধ করে রাখার হুমকি দেন। সাংবাদিকদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে তিনি পরে নিজের বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) রাজশাহী জেলা কমিটির পরিচিতি সভায় সংবাদ সংগ্রহের জন্য সাংবাদিকরা মোটেলের সম্মেলন কক্ষে উপস্থিত ছিলেন। গত-(২৯ নভেম্বর) শনিবার এনসিপির রাজশাহী জেলা আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। একদিন পরে পাঁচ সদস্য পদত্যাগ করেন। রোববার রাতে কয়েকজন জুলাই যোদ্ধা সংবাদ সম্মেলন করে নতুন আহ্বায়ক সাইফুল ইসলামকে ‘আওয়ামী দোসর’ আখ্যা দিয়ে তার পদত্যাগ দাবি করেন।

এই উত্তেজনার মধ্যেই সোমবার বিকেলে পরিচিতি সভার আয়োজন করা হয়। সভা শুরুর আগে কমিটির আরও পাঁচজন সদস্য মোটেলের বাইরে দাঁড়িয়ে জেলা আহ্বায়ক সাইফুল ইসলামের পদত্যাগ দাবি করে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
সাংবাদিকরা তখন সাইফুল ইসলামের বক্তব্য নিতে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং কেউ কেউ সরাসরি সম্প্রচার শুরু করেন। ঠিক সেই সময় সোয়েব আহমেদ আরেকজনকে নিয়ে সভাকক্ষে ঢুকে সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, “এখনই সাংবাদিকরা বেরিয়ে যান, না হলে সবাইকে তালা মেরে দেওয়া হবে।” তিনি আরও কিছু আপত্তিকর মন্তব্য করেন।

সাংবাদিকরা সঙ্গে সঙ্গে এর তীব্র প্রতিবাদ জানালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সোয়েব আহমেদ দ্রুত সভাকক্ষ থেকে বাইরে বেরিয়ে যান। সাংবাদিকরা তার পেছনে গিয়ে তাকে ঘিরে ধরে হুমকির প্রতিবাদ জানালে পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে। চাপের মুখে সোয়েব আহমেদ তার বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

এর আগে পরিচিতি সভা চলাকালে সোয়েবসহ কয়েকজন ‘অ্যাকশন অ্যাকশন ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ স্লোগান দিয়ে মোটেলের ভেতরে প্রবেশ করেন। এতে মোটেলের কর্মীরা ভেতরে ৫৩ জন অতিথি থাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হতে পারে বলে তাদের বাইরে গিয়ে স্লোগান চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন।

এনসিপির মহানগর আহ্বায়ক মোবাশ্বের আলী জানান, “ছেলেটা আমাদের সঙ্গে চলে, কিন্তু দলের কোনো পদে নেই। সে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে ছিল। বয়স কম, তাই এমন কথা বলে ফেলেছে। আসলে জেলার আহ্বায়ক সাইফুলকে নিয়ে তাদের ক্ষোভ আছে। আওয়ামী সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রসঙ্গে এনসিপির জেলা আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম বলেন, “আমার কোনো আওয়ামী সম্পৃক্ততা নেই। আগে আমি জিয়া পরিষদের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। পরে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হই। এরপর এনসিপিতে এসেছি।