ঢাকা | বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬,১০ বৈশাখ ১৪৩৩

যুক্তরাজ্য ও পর্তুগালে ‘বাংলাদেশ’ ইস্যু: বাড়ছে উদ্বেগ

ইউরোপের রাজনীতিতে দিন দিন দৃশ্যমান হচ্ছে ডানপন্থী শক্তির উত্থান। এরই মধ্যে যুক্তরাজ্য ও পর্তুগালে বাংলাদেশকে ঘিরে বিতর্কিত মন্তব্য ও প্রচারণা ঘনীভূত হচ্ছে, যা সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

গত কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে প্রকাশিত দুটি ছবি ও খবর এখন ইউরোপীয় সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। একটি প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যের পত্রিকা দ্য ডেইলি মেইল, আরেকটি এসেছে পর্তুগালের বিরোধী দলীয় নেতা আন্দ্রে ভেনচুরার অফিসিয়াল প্রচারণা পেজ থেকে।

লন্ডনে মুখোশধারী যুবকদের মিছিল নিয়ে বিতর্ক

দ্য ডেইলি মেইল এর প্রতিবেদনে বলা হয়—

“ইউকেআইপি (United Kingdom Independence Party)—যা যুক্তরাজ্যের ডানপন্থী পপুলিস্ট রাজনৈতিক দল—তাদের পরিকল্পিত বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করার পর, পূর্ব লন্ডনের রাস্তায় মুখোশধারী একদল মুসলিম যুবক ‘সম্প্রদায় রক্ষায় প্রস্তুত’ থাকার অঙ্গীকার নিয়ে মিছিল করেছে। ওই এলাকায় বাংলাদেশ ও ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়তে দেখা গেছে, কালো পোশাক, হুড ও মুখ ঢাকা তরুণদের উপস্থিতিও চোখে পড়েছে।”

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এ ঘটনায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ একে “সংহতির বার্তা” হিসেবে দেখলেও, ডানপন্থী মহলে এটি “ধর্মীয় আধিপত্যের প্রকাশ” হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

পর্তুগালে নির্বাচনী ইস্যু: “This is not Bangladesh”

অন্যদিকে, পর্তুগালের বিরোধী নেতা আন্দ্রে ভেনচুরা, যিনি ২০২৬ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের অন্যতম সম্ভাব্য প্রার্থী, তাঁর নির্বাচনী স্লোগানেই উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম—

“Isto não é o Bangladesh” (এটি বাংলাদেশ নয়)।

এই বার্তাটি এখন দেশজুড়ে বিলবোর্ড, পোস্টার ও টেলিভিশন বিজ্ঞাপনে ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি বিষয়টি নিয়ে পর্তুগালের সংসদেও একাধিকবার উত্তপ্ত বিতর্ক হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভিবাসনবিরোধী এই প্রচারণা সরাসরি বাংলাদেশি ও দক্ষিণ এশীয় জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছে।

বাংলাদেশিদের জন্য শঙ্কার বার্তা

পর্তুগালে বর্তমানে প্রায় ৫০ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি নাগরিক বসবাস করছেন। তাদের অনেকে ক্ষুদ্র ব্যবসা, রেস্টুরেন্ট বা সেবাখাতে কাজ করেন। আন্দ্রে ভেনচুরার দল সরকার গঠন করলে অভিবাসন নীতি কঠোর হয়ে বাংলাদেশিদের চাকরি, বসবাসের অনুমতি ও ব্যবসা পরিচালনা আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করছেন পর্যবেক্ষকরা।

ইতোমধ্যে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশিদের ভিসা প্রক্রিয়া জটিল হয়ে উঠছে; অভিবাসন প্রত্যাশীদেরও বাড়তি নজরদারির মুখে পড়তে হচ্ছে।

পর্তুগাল ও যুক্তরাজ্য—দুই দেশেই বাংলাদেশের দূতাবাস রয়েছে। তবে প্রশ্ন উঠছে—এসব দূতাবাস ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কি ডানপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পর্যাপ্ত কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখতে পারছে?

এদিকে পশ্চিমা বিশ্বে ফার রাইট রাজনীতির প্রসার এখন বাস্তবতা। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার ও বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের স্বার্থ রক্ষায় দূতাবাসগুলোর তৎপরতা আরও বাড়ানো জরুরি বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

সূত্র: জুলকারনাইন খান সায়ের