ঢাকা | মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬,১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

রাবির ফাইন্যান্স বিভাগে বাড়তি ফি আদায়ের অভিযোগ, জানেন না ডিন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ফাইন্যান্স বিভাগে মানোন্নয়ন পরীক্ষা ও নন-কলেজিয়েট শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফির তুলনায় বেশি অর্থ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে ডিস-কলেজিয়েট শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়ার অভিযোগও করেছেন বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ফাইন্যান্স বিভাগে মানোন্নয়ন পরীক্ষা ও নন-কলেজিয়েট শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফির তুলনায় বেশি অর্থ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে ডিস-কলেজিয়েট শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়ার অভিযোগও করেছেন বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী।

এসব বিষয়ে বিভাগের সভাপতির বিরুদ্ধে একচ্ছত্র সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও শিক্ষার্থীদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টির অভিযোগও রয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী নন-কলেজিয়েট শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত জরিমানা দিয়ে পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ থাকলেও ফাইন্যান্স বিভাগে এ বাবদ ২ হাজার ৫০০ টাকা নেয়া হচ্ছে।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন নীতিমালা ও বিবিএ অধ্যাদেশে এ সংক্রান্ত ফির পরিমাণ নিয়ে ভিন্ন উল্লেখ রয়েছে বলে জানা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো শিক্ষার্থীর ক্লাসে উপস্থিতি ৬০ শতাংশ বা তার বেশি কিন্তু ৭৫ শতাংশের কম হলে তাকে নন-কলেজিয়েট হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত জরিমানা পরিশোধ করে পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ রয়েছে। আর উপস্থিতি ৬০ শতাংশের নিচে হলে শিক্ষার্থী ডিস-কলেজিয়েট হিসেবে গণ্য হন এবং সাধারণত সংশ্লিষ্ট সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ থাকে না।

ফাইন্যান্স বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর দাবি, নন-কলেজিয়েট শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা নেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ডিস-কলেজিয়েট শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা নেয়ার বিনিময়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়ার ঘটনাও ঘটে।

তবে ডিস-কলেজিয়েট শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে পরীক্ষায় বসানোর অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক এ এস এম কামরুজ্জামান। তিনি বলেন,‘‘ না, এটা হয় না। এভাবে টাকা নিয়ে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় বসানোর কোনো বিষয় নেই। বরং শিক্ষার্থীরা যাতে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে, সে বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করি।”

নন-কলেজিয়েট শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা নেয়ার বিষয়েও তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত নন অধ্যাপক এ এস এম কামরুজ্জামান বলেন, ‘‘ বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত নন-কলেজিয়েট ফি শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকেই জমা দেয়। আমাদের এখানে নন-কলেজিয়েটের জন্য যে ফি নির্ধারিত আছে, সেটা তো দিতেই হয়। তবে ঠিক কত টাকা নেয়া হচ্ছে, সেটা এই মুহূর্তে সঠিকভাবে বলতে পারছি না। অফিসে খোঁজ নিয়ে বলতে হবে ’’

অবশ্য শুধু নন-কলেজিয়েট সংক্রান্ত ফি নয়, মানোন্নয়ন পরীক্ষা নিয়েও শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি বিভাগের প্রথম বর্ষের প্রথম সেমিস্টার পরীক্ষার ফর্ম পূরণসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে মানোন্নয়ন পরীক্ষার জন্য বিভাগের সভাপতির নামে ১ হাজার ৫০০ টাকা জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। এর বাইরে প্রতিটি কোর্সের জন্য আরও ১০০ টাকা করে নেয়া হয় বলে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন।

বিভাগের একাধিক শিক্ষার্থীর ভাষ্য, অন্য অনেক বিভাগে তুলনামূলক কম অর্থে মানোন্নয়ন পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ থাকলেও ফাইন্যান্স বিভাগে এ বাবদ খরচ বেশি। ফলে ফলাফল উন্নত করতে ইচ্ছুক হলেও আর্থিক কারণে অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে যাচ্ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘‘একজন শিক্ষার্থীর বিভিন্ন কারণে কোনো একটি পরীক্ষায় খারাপ ফল হতে পারে। কিন্তু মানোন্নয়ন পরীক্ষার জন্য দেড় হাজার টাকা এবং প্রতি কোর্সে আরও ১০০ টাকা দিতে হলে সেটি অনেকের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করে। অন্য বিভাগে যেখানে ১০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে ফি নেয়া হয়, সেখানে আমাদের দেড় হাজারের বেশি দিতে হচ্ছে ।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘ আমরা বিভাগের কাছে অনেকটাই জিম্মি হয়ে আছি। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলার সুযোগও সীমিত। ’’

তবে মানোন্নয়ন পরীক্ষার ফি বাড়ানোর বিষয়টি স্বীকার করেছেন বিভাগীয় সভাপতি। তার ভাষ্য, শিক্ষার্থীদের বারবার মানোন্নয়ন পরীক্ষায় অংশ নেয়ার প্রবণতা কমাতেই ফি বাড়ানো হয়েছে।

মানোন্নয়ন পরীক্ষার ফি বাড়ানোর বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক এ এস এম কামরুজ্জামান বলেন, ‘মানোন্নয়ন পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের প্রবণতা অনেক বেড়ে গেছে। আমরা এটাকে কিছুটা নিরুৎসাহিত করতে চাচ্ছি। আগে মানোন্নয়ন পরীক্ষার ফি ১ হাজার টাকা ছিল। আমরা ৫০০ টাকা বাড়িয়ে দেড় হাজার টাকা করেছি।’

এদিকে বিভাগীয় সভাপতির সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। তাদের অভিযোগ, বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সভাপতির একক সিদ্ধান্তের প্রভাব বেশি এবং এর কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চাপ ও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।

বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘‘ আমাদের বিভাগে সভাপতির সিদ্ধান্তই অনেক ক্ষেত্রে চূড়ান্ত হয়ে যায়। শিক্ষার্থীদের ওপর নানা ধরনের মানসিক চাপও তৈরি হয়। ’’

তবে এ অভিযোগের বিষয়ে বিভাগীয় সভাপতির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ফাইন্যান্স বিভাগ ব্যবসা অনুষদের অন্তর্ভুক্ত হলেও বর্তমানে অনুষদের ডিনের দায়িত্ব পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম। বিভাগের ফি আদায় ও ডিস-কলেজিয়েট শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশ নেয়ার অভিযোগের বিষয়ে তাকে অবহিত করা হলে তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা জানান।

অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘‘এসব বিষয়ে আমাকে কেউ এখন পর্যন্ত জানায়নি। আপনার কাছ থেকেই বিষয়টি প্রথম জানলাম। আমি বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে সত্যতা যাচাই করব। যদি কোনো অবৈধ কিছু হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই তা চলতে পারে না।’’

শিক্ষার্থীদের অভিযোগগুলো যাচাই করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি ও সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশ অনুযায়ী ফি আদায় হচ্ছে কি না, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।