ঢাকা | শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,১১ আশ্বিন ১৪৩৩

সুপারিশ পেয়েও নিয়োগবঞ্চিত জবির শিক্ষার্থী হাবিব আহসান

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের বাংলা বিভাগের ১৩তম আবর্তনের শিক্ষার্থী হাবিব আহসান।


সব কিছু ঠিক থাকলেও নিয়োগ থেকে বঞ্চিত হওয়ায় হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে বিষয়টি নিয়ে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ওই শিক্ষার্থী জানান, “প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন তিনি। স্বাস্থ্য পরীক্ষাতেও সব পরীক্ষার ফলাফল স্বাভাবিক ছিল। নির্ধারিত সময়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদানের জন্য প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্রও জমা দিয়েছিলেন।”

তার দাবি, তার নামে কোনো মামলা,জিডি বা কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতাও নেই। প্রয়োজনীয় সব ডকুমেন্ট ঠিক থাকার পাশাপাশি স্থায়ী ঠিকানা নিয়েও কোনো জটিলতা নেই। কিন্তু তদন্তকারী সংস্থা ডিএসবি ও এনএসআইয়ের যাচাইপ্রক্রিয়াতেও তিনি পজিটিভ ছিলেন। এর পরেও শেষ পর্যন্ত নিয়োগপত্র থেকে বঞ্চিত হয়েছেন তিনি।

নিজের জীবনের সংগ্রামের কথা তুলে ধরে হাবিব আহসান বলেন,”ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় তার বাবা মারা যান। এরপর টিউশনি করে নিজের পড়াশোনার খরচ চালানোর পাশাপাশি পরিবারের দায়িত্বও কাধে নিতে হয়েছে তাকে। এসএসসির পর থেকে পরিবারের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা না পেয়েও নিজের চেষ্টায় পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন তিনি।”

ভর্তি কোচিং করার সামর্থ্য না থাকলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার জীবনের প্রতিটি অর্জনের পেছনে ছিল সংগ্রাম ও জেদ।


নিয়োগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার বিষয়ে আক্ষেপ করে তিনি বলেন, “আমার কোনো রকম অসংগতি বা জটিলতা না থাকা সত্ত্বেও আমি নিয়োগপত্র থেকে বঞ্চিত হলাম। এই দায় আমি কাকে দেব?”

বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। তিনি জানান,”গত মাসে একটি কোম্পানির চাকরি থেকে পদত্যাগ করেছেন এবং বাসাও ছেড়েছেন। এখন কোথায় গিয়ে দাড়াবেন এবং অসুস্থ মাকে কীভাবে সান্ত্বনা দেবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।”

তিনি আরও বলেন,” দীর্ঘদিন বিভিন্ন অন্যায় ও অবিচারের শিকার হলেও মামলা-মোকদ্দমায় নিজেকে জড়াননি। নিজের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা প্রমাণ করা গেলে আজীবন সেই ব্যক্তির গোলামি করবেন এমন মন্তব্যও করেন তিনি।”

হাবিব আহসান বলেন , ” আজ আমি বিব্রত, কাল আমার লাইব্রেরির ভাইয়েরা। এই যাতনা মেনে নেওয়ার ক্ষমতা সবার থাকে না।”

তিনি আরও বলেন,”আজ আমি ব্যর্থ হলে আমার বিশ্ববিদ্যালয়ও ব্যর্থ। কারণ আমার বিশ্ববিদ্যালয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে পড়ানোর মতো শিক্ষা দিতে পারেনি বিধায় রাষ্ট্র আমাকে বাদ দিচ্ছে।”

চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও কী কারণে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি এবং যাচাইপ্রক্রিয়ায় তার বিষয়ে কী তথ্য পাওয়া গেছে তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দাবি করেছেন তিনি।