ঢাকা | বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬,৫ ভাদ্র ১৪৩৩

ঢাকা মেডিকেলের অধ্যাপককে নির্মমভাবে পেটাল চাঁদাবাজরা

দুচোখ ভর্তি জমাট বাঁধা রক্ত আর ক্ষতিগ্রস্ত কর্ণিয়ায় হাসপাতালের বিছানায় চিকিৎসক। গত সোমবার (১৭ আগস্ট) চেম্বারে রোগী দেখে বেরিয়েছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক, কান, গলা ও হেড-নেক সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমান। রাতে সাড়ে ১০টার দিকে শান্তিনগরের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে তার ওপর হামলা চালায় কয়েকজন।

তার হোয়াটসঅ্যাপের কয়েকটি স্ক্রিনশটে দেখা যায়, ৬ আগস্ট তার কাছে ১৫ হাজার মার্কিন ডলার চাঁদা দাবি করে বার্তা পাঠানো হয়। সময় বেঁধে দেওয়া হয় ১৫ আগস্ট। এর দুই দিন পর ১৭ আগস্ট ঘটে হামলার ঘটনা। হুমকি দেওয়ার সময় ডেভিড ইমনের নাম উল্লেখ করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী চিকিৎসক।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী চিকিৎসক আসাদুর রহমান বলেন, আমার হোয়াটসঅ্যাপে একটা মেসেজ আসছে যে, ‘আমরা অমুক গ্রুপের।’ আমার কাছে তারা ১৫ হাজার ডলার চাঁদা চাইছে এবং সেটা ১৫ তারিখের মধ্যে দিতে বলছে। আমি এটাকে ইগনোর করছি। আমি ভাবছি, ফেক কোনো গ্রুপ থেকে এরকম কিছু হইতে পারে। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা গেছে, তারা ১৫ তারিখে চাঁদাটা না পেয়ে ১৭ তারিখে তারা আমারে অ্যাটাক করছে।

হামলার পরও থামেনি হুমকি উল্লেখ করে ভুক্তভোগী চিকিৎসক আরও জানান, ১৭ তারিখে অ্যাটাক করার পরে, ঘণ্টাখানেক পরে তারা আবার মেসেজ পাঠাইছে, এইরকম যে, ‘নাউ হাউ ডু ইউ ফিল?’ এবং ১৭ তারিখের পরের দিন সকালে আবার মেসেজ পাঠাইছে যে, ‘তুমি আমাদের সঙ্গে কি আরও ঝামেলা করতে চাও?’ এবং তারা এভাবে মেসেজ পাঠাইছে, ‘তুমি কার কাছে যাবা? যার কাছেই যাবা, তাদের সঙ্গে আমাদের কানেকশন আছে। অতএব, তুমি কারও কাছে গিয়া তুমি কোনো বেনিফিট পাবা না। উল্টা তোমাকে তারা ফাঁসায় দেবে।’

আহত অবস্থায় এখন ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমান। চিকিৎসকের ওপর চাঁদাবাজদের হামলার ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

সংবাদ সম্মেলন করে নিন্দা জানিয়েছে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) মহাসচিব জহিরুল ইসলাম শাকিল বলেন, সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের কাউকে চিহ্নিত বা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হয়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। দাবি জানাচ্ছি যে, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানসমূহে যেকোনো ধরনের হামলায় জড়িতদের অতি দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের ঘৃণ্য কর্মকাণ্ড ঘটাতে না পারে।

এদিকে হামলার ঘটনায় থানায় অভিযোগের পর তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জীবন নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।