ঢাকা | শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬,৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩

রাজনীতিতে সক্রিয় থেকেও স্নাতকে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট নোবিপ্রবির মেহেদী

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের কৃষি বিভাগের ছাত্র মো. মেহেদী হাসান মুন্না প্রমাণ করেছেন যে, ছাত্ররাজনীতি একাডেমিক সাফল্যের পথে বাধা নয়। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থেকেও স্নাতক চূড়ান্ত পরীক্ষায় তিনি অসাধারণ ফলাফল অর্জন করেছেন এবং বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন। এর মাধ্যমে সমাজে প্রচলিত ‘রাজনীতি করলে পড়ালেখা হয় না’—এমন ধারণাকে নিজের সাফল্যের মধ্য দিয়েই বুড়ো আঙুল দেখালেন তিনি।

সদ্য প্রকাশিত স্নাতক চূড়ান্ত পরীক্ষার ফলাফলে ৪.০০-এর মধ্যে ৩.৮৮ সিজিপিএ অর্জন করেছেন মেহেদী হাসান। একই সঙ্গে তিনি কৃষি বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করে নিজের মেধা ও একাডেমিক অধ্যবসায়ের স্বাক্ষর রেখেছেন।

শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি ক্যাম্পাসের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন মেহেদী। ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রমে অংশ নিলেও পড়াশোনার প্রতি তার মনোযোগে এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। বরং রাজনীতি ও একাডেমিক কার্যক্রমের মধ্যে ভারসাম্য রেখে তিনি অর্জন করেছেন বিভাগের সর্বোচ্চ ফলাফল।

মেহেদীর এই সাফল্য বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন ছাত্রদলের কর্মীরা। কারণ, শিক্ষার্থীর রাজনৈতিক সম্পৃক্ততাকে অনেক সময় তার মেধা, যোগ্যতা কিংবা একাডেমিক সাফল্যের বিপরীতে দাঁড় করিয়ে দেখা হয়। অথচ মেহেদীর ফলাফল দেখিয়েছে, কোনো শিক্ষার্থী রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকলেই তার পড়াশোনা বা ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হবে এমন ধারণা সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। বরং সময় ব্যবস্থাপনা, অধ্যবসায়, নিয়মিত পড়াশোনা এবং নিজের লক্ষ্য সম্পর্কে সচেতন থাকলে একাডেমিক সাফল্যের পাশাপাশি সহশিক্ষা ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় থাকা সম্ভব।

মেহেদীর সহপাঠীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তিনি একদিকে যেমন রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন, অন্যদিকে পড়াশোনার ক্ষেত্রেও ছিলেন মনোযোগী। পরীক্ষার প্রস্তুতি, একাডেমিক কাজ এবং বিভাগের বিভিন্ন কার্যক্রমে তার অংশগ্রহণ ছিল নিয়মিত। ফলে তার এই ফলাফল সহপাঠীদের কাছেও অনুপ্রেরণার বিষয় হয়ে উঠেছে।

ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকেও বিভাগে প্রথম হওয়ার বিষয়ে মেহেদী হাসান বলেন, ছাত্রজীবনের শুরু থেকেই জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলকে মনে-প্রাণে ধারণ করেছি। নোবিপ্রবি ছাত্রদল কখনো ক্লাস বা পরীক্ষা বাদ দিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে চাপ দেয়নি। বরং কোন কোর্স কীভাবে পড়তে হবে, সে বিষয়ে ছাত্রদল সভাপতি থেকেও পরামর্শ পেয়েছি। ছাত্রদলের সক্রিয় রাজনীতি করার পরও আমার ক্লাসে উপস্থিতি ছিল শতভাগ। জীবনে আমার রাজনৈতিক আদর্শ শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তার আদর্শিক মনোভাব বজায় রেখে দেশ ও জাতির জন্য কাজ করতে চাই।

নিজের স্কুলজীবনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ক্লাস টেনে পড়ার সময় পুরো স্কুলে স্টুডেন্ট কেবিনেট নির্বাচন হয়। বিপুল ভোটে আমি জয়লাভ করি। কিন্তু ছাত্রলীগের ছেলেরা আমাকে সেই পদ থেকে সরানোর জন্য বারবার শারীরিকভাবে আক্রমণ করেছে। কুমিল্লা পলিটেকনিকের তৎকালীন ছাত্রলীগ সভাপতির হুমকি-ধমকিরও শিকার হয়েছি। কিন্তু অন্যায়ের কাছে কখনো মাথা নত করিনি। ভিপি পদ বহাল রেখেই বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে সফলতার সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছি।

ছাত্রদলের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মেহেদী বলেন, ছাত্রদল করলেই কারও ক্যারিয়ার নষ্ট হয় না। বরং এখানে ভালো ফলাফল করার পাশাপাশি নেতৃত্বগুণ তৈরি করার জন্য অনুপ্রেরণা পাওয়া যায়। আমার ক্ষেত্রেই তার বাস্তব উদাহরণ রয়েছে। ছাত্রদলের সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার পরও দিন দিন আমার সিজিপিএ ভালো হয়েছে।

এ বিষয়ে নোবিপ্রবি ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসান বলেন, নোবিপ্রবি ছাত্রদল সবসময় শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে। আমাদের ছাত্রদলের একনিষ্ঠ কর্মী মেহেদী হাসান মুন্না ডিপার্টমেন্টে ফার্স্ট হয়েছে। এতে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। মেধাবীদের উৎসাহিত করে এবং মেধাবীদের সমন্বয়েই ছাত্রদল এগিয়ে যাবে।

রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা এবং পড়াশোনায় ভালো করাকে পরস্পরবিরোধী হিসেবে না দেখে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দুটির সমন্বয় ঘটানো সম্ভব মেহেদী হাসানের অর্জন তারই উদাহরণ। তার এই সাফল্য নোবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের মধ্যে একাডেমিক উৎকর্ষের পাশাপাশি ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল ছাত্ররাজনীতির চর্চার ক্ষেত্রেও নতুন দৃষ্টান্ত তৈরির বার্তা বহন করছে।