ঢাকা | শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬,৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩

অনিয়মের সংবাদ করায় সাংবাদিক ইনসানকে হুমকি, থানায় মিথ্যা জিডি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজের (আইবিএস) পরিচালক অধ্যাপক মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে গবেষণার অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ ও তথ্য সংগ্রহের জেরে এক সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনায় সাংবাদিককে হয়রানি ও সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত রাখতে মতিহার থানায় ‘মিথ্যা’ সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন ওই সাংবাদিক।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুর ২টা ৪০ মিনিটের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন রাবি রিপোর্টার্স ইউনিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক ইনসান আলী।

ইনসান আলীর অভিযোগ, আইবিএস পরিচালকের বিরুদ্ধে গবেষণার অনিয়ম নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য তিনি অধ্যাপক মোস্তফা কামালের কাছে যান। এ সময় তিনি মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করে বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করলে অধ্যাপক মোস্তফা কামাল তার ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং তাকে শারীরিকভাবে গুরুতর ক্ষতির হুমকি দেন।

ইনসান আলী বলেন, “আমি নিউজ করার জন্য স্যারের কাছে বক্তব্য নিতে যাই। ক্যামেরা চালু করে ভিডিও করা শুরু করি। একপর্যায়ে তিনি আমার মোবাইল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এরপর আমাকে বলেন, ‘তুই আমাকে চিনিস, মেরে হাত-পা ভেঙে বস্তায় পাঠাবো।’ পরে ভয়ে আমি সেখান থেকে চলে আসি।”

তিনি আরও বলেন, “আমি শঙ্কিত যে তিনি যেকোনো সময় আমার ওপর হামলা করতে পারেন। বিষয়টি আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে জানিয়েছি। আমাকে হয়রানি ও সংবাদ প্রকাশ থেকে দমিয়ে রাখার উদ্দেশ্যেই মতিহার থানায় মিথ্যা জিডি করা হয়েছে বলে আমি মনে করছি।”

সাংবাদিক ইনসান আলীর দাবি, ঘটনার সময় সেখানে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, গত ১৩ আগস্ট অধ্যাপক মোস্তফা কামাল সাংবাদিক ইনসান আলীর বিরুদ্ধে মতিহার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন বলে জানা গেছে। তবে ওই জিডিতে কী অভিযোগ করা হয়েছে, তা বিস্তারিতভাবে জানা যায়নি।

এ ছাড়া রাবি প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ মীর তুহিন, আবু বকর অনিক ও সৈয়েদ মাহিনের বিরুদ্ধে অধ্যাপক মোস্তফা কামালের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ করেছেন সাংবাদিক ইনসান আলী।

ইনসান আলীর দাবি, তাকে হয়রানি ও তার করা সংবাদকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে ওই সাংবাদিকদের ব্যবহার করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তবে অধ্যাপক মোস্তফা কামালের কাছ থেকে ওই সাংবাদিকদের টাকা নেওয়ার অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ তিনি উপস্থাপন করতে পারেননি।

অভিযোগের বিষয়ে অধ্যাপক মোস্তফা কামালের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।

ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বি দ্য ষয়টি খতিয়ে দেখার কথা জানান।