ঢাকা | রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬,১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

ঢাবির শহীদুল্লাহ হলে সমকামিতার অভিযোগ, এজিএসের সিট বাতিল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল সংসদের সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ইব্রাহীম খলিলের কক্ষে দুই অতিথির বিরুদ্ধে সমকামিতায় জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিয়ো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে— যেখানে সমকামিতার মতো আপত্তিকর কাজের জন্য দুজন ব্যক্তি ভিডিয়ো ধারণকারীর কাছে ক্ষমা চাচ্ছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইব্রাহীম খলিলের সিট সাময়িকভাবে বাতিল ও তদন্ত করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছে হল প্রশাসন।

শনিবার সন্ধ্যায় ফেসবুকে এ সংক্রান্ত ভিডিয়ো ছড়ানোর পর এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে এজিএস ও ছাত্রশিবির কর্মী ইব্রাহীম খলিল বলছেন, ওই দুই যুবক চিকিৎসার কথা বলে আসায় তিনি তাদের থাকতে দিয়েছিলেন।

জানা যায়, ঘটনাটি গত ২৭ জুলাই রাতে ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হলের ওই এজিএসের রুমে ঘটে। ঘটনার সময় একটি ভিডিয়ো ধারণ হয়, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাল ভিডিয়োতে দেখা যায়, ওই এজিএসের দুজন অতিথি ক্ষমা চাইছেন। বারবার বলছেন, আর হবে না।

​এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিজস্ব ফেসবুক গ্রুপে একটি পোস্ট দিয়ে ইবরাহিম খলিল ফেসবুক পোস্টে বলেন, আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। আমার রুমেই একটি ঘৃণ্য অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, যা সম্পর্কে আমি পূর্বে বিন্দুমাত্র কিছু জানতাম না। আমার মায়ের মামাতো ভাই নোয়াখালী মাদানিয়া মাদরাসায় পড়ে। আমাকে ২৬ তারিখে ফোন দেয়। সে পিজি হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে আসবে, কিন্তু ঢাকায় থাকার মতো কোনো জায়গা নেই। স্বাভাবিকভাবে আমি বললাম, আমার এখানে থাকতে পারবে। ২৭ তারিখ রাত আনুমানিক ১২টা ৪৭ মিনিটের দিকে ও আমার হলে আসে। সঙ্গে দেখি আরেকটা ছেলে। আমি তাকে তখনই বললাম, আমার এখানে সর্বোচ্চ দুজন ঘুমাতে পারবে। তুমি আরেকজন নিয়ে আসছ, আমাকে বলবে না?

তিনি বলেন, পরে আমি আমার বন্ধুকে কল দিই, তার রুমে বেড ফাঁকা আছে কি-না। বলল, একজন ওদের নিচে ঘুমাবে। তখন তারা একজন নিচে ঘুমায়। সকালে উঠে আমি ক্লাসে চলে যাই। সেখান থেকে এসে আমার বন্ধুর রুমে মোবাইল চার্জ দিই। সেখান থেকে আমার বন্ধুদের সঙ্গে মাওয়া ঘুরতে চলে যাই। তাদের সঙ্গে ২৭ তারিখ পুরো দিনে আমার একবারের জন্যও দেখা হয়নি। সেদিন তারা ডাক্তার দেখানোর জন্য চলে যাওয়ার সময় আমাকে কল দিয়ে বলে, তারা ডাক্তার দেখাতে যাচ্ছে। এর মাঝখানে তাদের সঙ্গে আমার একবারের জন্যও দেখা হয়নি। আমার রুমমেট বা যারা সেদিন এমন জঘন্য কাজ দেখেছে, আমায় একবার জানালে আমি নিজ দায়িত্বে এদের আইনের হাতে তুলে দিতাম। এরপর আমি রুমে গেলাম, আমার রুমমেট বা অন্য কেউ কিছু জানায়নি।

তিনি আরও বলেন, আমি হঠাৎ আজকে এই পোস্টটা দেখি। আমি এখন তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবো। আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। আমার রুমেই একটি ঘৃণ্য অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, যা সম্পর্কে আমি পূর্বে বিন্দুমাত্র কিছু জানতাম না। আমার রুমমেটের মেসেজ দেয়া আছে। আমি জানতামই না এই ব্যাপারে।

এছাড়া তার অতিথিদের এমন কর্মকাণ্ডের জন্য তাদের নামে থানায় জিডি করবেন বলেও গণমাধ্যমকে জানান ইবরাহিম খলিল।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (ডাকসু) সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের একটি ফেসবুক পোস্টে বলেন, শহিদুল্লাহ হলের এজিএসকে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে এবং এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককেই বিচারের মুখোমুখি করা হবে। আমরা ইতোমধ্যেই প্রশাসনকে অবহিত করেছি। ডাকসু এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ সরব থাকবে আপনারা নিশ্চিত থাকেন। সমকামিতা তথা এলজিবিটিকিউয়ের বিরুদ্ধে আমাদের নীতি জিরো টলারেন্স।

এ বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানতে চাইলে শহীদুল্লাহ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আমিনুল ইসলাম ভূইয়া বলেন, ইব্রাহীম খলিলের সিট সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

হল সংসদের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, জানতে চাইলে শহীদুল্লাহ হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) তৌকির হাসান বলেন, তারা ইব্রাহীম খলিলের কাছে ঘটনার বিস্তারিত জানতে চেয়েছেন। এজিএস এবং তার রুমমেটের বক্তব্য শোনার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।