ঢাকা | সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬,২৯ আষাঢ় ১৪৩৩

ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেল তিন যমজ বোন, কুড়িগ্রামে আনন্দের জোয়ার

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় একসঙ্গে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়ে জেলায় এক অনন্য ও অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে কুড়িগ্রামের তিন যমজ বোন- তাবিয়া রহমান, তাহিয়া রহমান ও তাকিয়া রহমান। একই পরিবারের তিন কন্যার এমন বিরল সাফল্যে পরিবারসহ পুরো এলাকায় এখন আনন্দের জোয়ার বইছে।

তারা কুড়িগ্রাম জজকোর্টের আইনজীবী তারিকুর রহমান তারিক ও গৃহিণী শাহিনা আক্তারের সন্তান। ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় তাহিয়া রহমান ও তাকিয়া রহমান কুড়িগ্রাম সরকারি বালিকা বিদ্যালয় থেকে এবং তাবিয়া রহমান অর্জুনডারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে অংশগ্রহণ করে এই সাফল্য অর্জন করে। বর্তমানে তাহিয়া ও তাকিয়া কুড়িগ্রাম সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে এবং তাবিয়া কুড়িগ্রাম বর্ডার গার্ড স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত আছে।

‎পরিবার ও শিক্ষকরা জানান, ছোটবেলা থেকেই তিন বোন অত্যন্ত মেধাবী, শান্ত ও শিষ্ট স্বভাবের। নিয়মিত পড়াশোনা, শৃঙ্খলাবোধ এবং শিক্ষকদের নির্দেশনা অনুসরণের কারণে তারা এ সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

‎তিন কন্যার এমন অর্জনে তাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা আনন্দ প্রকাশ করেছেন। সন্তানের সাফল্যে গর্বিত বাবা-মা সকলের কাছে তাদের জন্য দোয়া চেয়েছেন। একই সঙ্গে মহান আল্লাহর কাছে কন্যাদের উত্তম জ্ঞান, নৈতিকতা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ কামনা করেছেন।

স্থানীয়রা বলছেন, মেধা, অধ্যবসায় ও নিয়মিত পড়াশোনার স্বীকৃতি হিসেবে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে তাবিয়া রহমান, তাহিয়া রহমান ও তাকিয়া রহমান।

বাবা আইনজীবী তারিকুর রহমান তারিক বলেন, মহান আল্লাহর কাছে তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ, উত্তম জ্ঞান ও নৈতিক চরিত্র গঠনের জন্য দোয়া কামনা করছি। পাশাপাশি সকলের কাছেও মেয়েদের জন্য দোয়া চাই।

কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মির্জা নাসির উদ্দিন বলেন, একই পরিবারের তিন যমজ বোনের একসঙ্গে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন শুধু তাদের পরিবারের গর্বই নয়, কুড়িগ্রামের শিক্ষা অঙ্গনের জন্যও একটি অনন্য ও অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্ত। তাদের এই সাফল্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জোগাবে।

‎কুড়িগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার বলেন, যমজ তিন শিক্ষার্থীর জন্য রইল শুভকামনা। আগামীতে আরও ভালো করুক।

‎একই পরিবারের তিন বোনের ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন কেবল তাদের পরিবারের জন্য নয়, কুড়িগ্রামের শিক্ষা অঙ্গনের জন্যও এক অনুপ্রেরণাদায়ক ঘটনা হয়ে থাকবে।