হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিকরা প্রশাসনিক বাধার মুখোমুখি হয়েছেন।
গত ১৬ জুন (মঙ্গলবার) আইআরটির এক অনুষ্ঠানে দৈনিক আমার দেশ এর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি কামরুল হাসান এবং দৈনিক গণকন্ঠ এর প্রতিনিধি সারোয়ার আলম রিজন সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সাংবাদিকদের উপস্থিতি দেখে উপাচার্য উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং অনুষ্ঠানের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আলমগীর হোসেনের সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে তিনি পরিচালকে সাংবাদিকদের বের করে দেওয়ার নির্দেশ দেন।
ভিসির এমন আচরণে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়েন আয়োজকসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন।
দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার প্রতিনিধি কামরুল হাসান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থেই আমরা কাজ করি। কিন্তু পদে পদে সাংবাদিকদের বাঁধা দেওয়া স্বাধীন সাংবাদিকতার অন্তরায়। এটি বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে না নিয়ে বরং পিছিয়ে দিচ্ছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, উপাচার্য সাংবাদিকদের ফোন রিসিভ করেন না এবং কোনো বিষয়ে বক্তব্য দেন না।
হাবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মো. তালহা হাসান বলেন, “পূর্বে প্রশাসনের যেকোনো আয়োজনে ক্যাম্পাস সাংবাদিকরা অংশ নিলেও বর্তমানে সেই সুযোগ থেকে আমরা বঞ্চিত হচ্ছি। ক্যাম্পাসের অনেক ইতিবাচক বিষয় গণমাধ্যমে তুলে ধরতে পারছি না। এর আগে একাধিকবার প্রোগ্রাম কাভার করতে গেলে উপাচার্য স্যার রাজি না থাকায় আমাদের অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের হয়ে যেতে হয়েছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রশাসনের সাথে কাজ করতে গেলে বারবার বাধার মুখোমুখি হতে হয়। ক্যাম্পাসের সমস্যা বা বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরলেই সাংবাদিকরা উপাচার্যের রোষানলে পড়েন। অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সাংবাদিকরা অবাধে কাজ করতে পারলেও হাবিপ্রবিতে উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ ব্যক্তির কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ভিসি প্রফেসর ড. এম. এনামউল্যা এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো কথা না শুনেই বলেন, “আমি কথা বলতে পারবো না, আমি মিটিং এ।”
সাংবাদিকরা ধারণা করছেন, ভিসির বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের কল রেকর্ড ফাঁস হওয়ার সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই তিনি সাংবাদিকদের সহ্য করতে পারছেন না। সেই ক্ষোভ থেকেই হাবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির অফিস ভাঙচুরের বিচারও করেন নি ভিসি বলে অভিযোগ করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকরা।





