ঢাকা | মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬,২ আষাঢ় ১৪৩৩

সেরা ২০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্বাচনে তথ্য চেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়

দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের সেরা ১০০টি শিখন ত্বরান্বিতকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জলবায়ু সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে সেরা ১০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্বাচনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিশ্বব্যাংকের ঋণ সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন ‘লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন’ (লেইস) প্রকল্পের আওতায় এই নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এ লক্ষ্যে দেশের সব উপজেলা ও মেট্রোপলিটান থানার নির্দিষ্ট কর্মসূচিভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো থেকে আগামী ২১ জুনের মধ্যে অনলাইনে তথ্য পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উন্নয়ন-১ শাখা থেকে জারি করা এক জরুরি চিঠিতে এ তথ্য জানা গেছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর অক্টোবর ২০২৩ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৮ মেয়াদে লেইস প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক সর্বমোট ৩০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা দিচ্ছে। এর মধ্যে নির্ধারিত কিছু লক্ষ্যমাত্রা বা ডিএলআর অর্জন সাপেক্ষে ২৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড় করা হবে। প্রকল্পের ৫ বছর মেয়াদে মোট ৩৫টি ডিএলআর অর্জনের লক্ষ্য রয়েছে, যার প্রতিটি অর্জনের বিপরীতে নির্ধারিত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্পের দ্বিতীয় বছরের (২০২৫) নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী—শিখন ত্বরান্বিতকরণের ক্ষেত্রে সফল মাধ্যমিক পর্যায়ের সেরা ১০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং জলবায়ু সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে সেরা ১০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সার্টিফিকেট ও পুরস্কার প্রদান করা হবে। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য এর আগে প্রতি উপজেলা বা থানা থেকে ৪টি করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ১টি দাখিল মাদ্রাসা) নির্বাচন করা হয়েছিল।

নির্দেশনা অনুযায়ী, সেরা শিখন ত্বরান্বিতকারী প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের জন্য নির্বাচিত বিদ্যালয় ও মাদ্রাসাগুলোকে তাদের ৬ষ্ঠ ও ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের গণিত বিষয়ের বিগত দুই শিক্ষাবর্ষের (২০২৪ ও ২০২৫) বার্ষিক পরীক্ষার ফল একটি অনলাইন সফটওয়্যারে এন্ট্রি করতে হবে। একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠান প্রধানের স্বাক্ষর করা ফলের স্ক্যান কপিও আপলোড করতে হবে।

অন্যদিকে, সেরা জলবায়ু চ্যাম্পিয়ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্বাচনের জন্যও প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রমাণক একই সফটওয়্যারে যুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠানো তথ্যের সঠিকতা যাচাইয়ের জন্য উপজেলা ও মেট্রোপলিটান থানা পর্যায়ে ৩ সদস্যের আলাদা ‘স্থানীয় কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ের কমিটিতে সভাপতি হিসেবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং সদস্য সচিব হিসেবে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া, মেট্রোপলিটান থানা পর্যায়ের কমিটিতে সভাপতি থাকবেন সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এবং সদস্য সচিব থাকবেন থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার।

ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ২০ জুনের মধ্যে (data.laiseproject.com) লিংকে তথ্য এন্ট্রি সম্পন্ন করতে হবে। পরবর্তী সময়ে স্থানীয় কমিটি ২১ জুনের মধ্যে সেই তথ্যের সঠিকতা যাচাই করে অনলাইনে ফরোয়ার্ড করবে। যেকোনো কারিগরি সমস্যার জন্য (support@laiseproject.com) ই-মেইলে যোগাযোগের অনুরোধ জানানো হয়েছে।