ঢাকা | বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬,৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

এমপিওর দাবিতে কাফনের কাপড় পরে মাদরাসা শিক্ষকদের অনশন

স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলোর এমপিও দ্রুত বাস্তবায়ন এবং চূড়ান্ত অনুমোদনপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জানুয়ারি ২০২৬ থেকে বেতন ছাড়ের দাবি জানিয়ে লাগাতার কর্মসূচির পর আমরণ অনশনে বসেছেন সংশ্লিষ্ট মাদরাসার শিক্ষকেরা।

শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শরীরে কাফনের কাপড় জড়িয়ে ৬ষ্ঠ দিনের মতো এ কর্মসূচি পালন করছেন তারা।

অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষক কল্যাণ কমিটির ব্যানারে গত রোববার সকাল থেকে এ অনশন কর্মসূচি শুরু করেছেন এ শিক্ষকেরা।

কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক মাওলানা শামসুল হক আনছারী এবং সঞ্চালনা করেন সদস্যসচিব হাফেজ মাওলানা মুফতি আব্দুল হান্নান হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সমন্বয়ক মাওলানা শেখ নজরুল ইসলাম মাহবুব, মো. গোলাম আজম, মাওলানা আব্দুর রহমান শাজাহান, শিক্ষক পরিষদের সভাপতি মো. নুরুননবী, মহাসচিব মো. শামছুল আলম প্রমুখ।

আন্দোলনরত শিক্ষক নেতারা বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তির আলোকে ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের নীতিমালা অনুযায়ী গত ৩ জুলাই থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত এমপিও আবেদন করা হয়। কিন্তু প্রায় ১০ মাস অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা এমপিওভুক্ত করা হয়নি। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনশন কর্মসূচি পালন করে যাব।

মাদরাসার এ শিক্ষক নেতাদের অভিযোগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক শূন্য পদে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বেতন ছাড়ের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হলেও মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এখনো কোনো শিক্ষকের বেতন ছাড় করেনি। এতে প্রায় ১ হাজার ৬৯০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা ছাড়া মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

শিক্ষক নেতারা আরও বলেন, ১৯৭৮ খ্রিষ্টাব্দের অধ্যাদেশের আওতায় আলিয়া মাদরাসা শিক্ষার প্রাথমিক স্তরের অনুমোদন দেওয়া হয় এবং ১৯৮৪ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসাগুলোকে স্বীকৃতি দেয়। পরে ১৯৯৪ খ্রিষ্টাব্দে এসব মাদরাসার শিক্ষকদের ভাতা দেওয়া শুরু হয় এবং ২০০১ খ্রিষ্টাব্দেশিক্ষার্থীদের জন্য বিনা মূল্যে পাঠ্যপুস্তক ও উপবৃত্তি চালু করা হয়।

এ শিক্ষকদের দাবি, ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দে সরকার ২৬ হাজার ১৯টি রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করলেও একটি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসাও জাতীয়করণ বা এমপিওভুক্ত করা হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা চাকরির নিরাপত্তা ও আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।

অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষক কল্যাণ কমিটির পক্ষ থেকে এমপিও দ্রুত বাস্তবায়ন এবং চূড়ান্ত অনুমোদনপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জানুয়ারি থেকে মে ২০২৬ পর্যন্ত অনুদান অবিলম্বে ছাড় করার জোর দাবি জানানো হয়। এ ছাড়া দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে লাগাতার অবস্থান ধর্মঘটসহ বিভিন্ন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।