ঢাকা | বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬,২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

প্রবাসে থেকেও বেতন-ভাতা তুলছেন শিক্ষিকা

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার পৌর এলাকার পাঁচরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হামিদা আক্তারের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কোনো প্রকার অনুমোদন ছাড়াই তিনি মাসের পর মাস ইতালিতে অবস্থান করছেন এবং নিয়মিত সরকারি বেতন-ভাতা ভোগ করছেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, হামিদা আক্তার ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের বিভিন্ন মেয়াদে ছুটি নিয়ে মোট ২০০ কার্যদিবস ইতালিতে অবস্থান করেছেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, হামিদা আক্তারের স্বামী হাবিবুর রহমান ইতালিতে বসবাস করেন। সেখানে তাদের দুই সন্তানও রয়েছে। ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ৩ মার্চ হামিদা আক্তার প্রথমে এক মাসের ছুটি নিয়ে ইতালিতে যান।

একই সূত্র জানায়, ইতালিতে অবস্থানকালে তিনি পর্যায়ক্রমে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ১০ এপ্রিল একবার এবং একই বছরের ৩০ জুলাই দ্বিতীয়বার ছুটি বৃদ্ধির আবেদন করেন। পরে ইতালিতে অসুস্থ হয়ে পড়ার অজুহাত দেখিয়ে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ অক্টোবর আরও তিন মাসের মেডিক্যাল ছুটির আবেদন করেন। এসব আবেদনের মাধ্যমে তিনি মোট ২০০ কার্যদিবস ইতালিতে অবস্থান করেন। পরবর্তীকালে একই বছরের নভেম্বরে দেশে ফিরে কর্মস্থলে যোগদানের আবেদন করেন।

প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে আরও জানা গেছে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী চাকরিরত কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে বিদেশ ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদন নিতে হয়। বহির্গমনের জন্য পাসপোর্ট তৈরির ক্ষেত্রেও অনুমোদনের নিয়ম রয়েছে। কিন্তু সহকারী শিক্ষক হামিদা আক্তার মন্ত্রণালয়ের কোনো অনুমোদন না নিয়েই পাসপোর্ট তৈরি করে অধিদপ্তরের বিনা অনুমতিতে মাসের পর মাস ইতালিতে স্বামী-সন্তানের কাছে অবস্থান করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, এসব ছুটির সময় তিনি সরকারের সব বেতন-ভাতাসহ যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন। এ ঘটনায় তৎকালীন শিক্ষা অফিসার সাকিনা বেগম হামিদা আক্তারের ছুটিগুলো মঞ্জুর করে তাকে অনৈতিক সুবিধা দিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

হামিদা আক্তারের ছুটি ভোগের বিষয়টি চলতি বছরের ৩০ মার্চ প্রকাশ্যে আসে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বিগত রমজানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৩৮ দিন বন্ধ থাকার পরও তিনি বিদ্যালয়ে যোগদান করেননি। বিষয়টি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামানের নজরে এলে চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল বিদ্যালয়ে যোগদান না করায় তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রমজান ও ঈদের ছুটি কাজে লাগিয়ে হামিদা আক্তার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই ইতালিতে গেছেন।

জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তা বিদেশ ভ্রমণ করতে হলে ডিজি মহোদয়ের অনুমোদন নিতে হয়। আমি চৌদ্দগ্রামে যোগদান করার পর হামিদা আক্তারের বিগত দিনের বিদেশ ভ্রমণের ছুটি মঞ্জুরের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের কোনো অনুমোদনপত্র পাইনি। বিগত দিনে তিনি কীভাবে বৈদেশিক ছুটি ভোগ করছেন, তা আমার আগের কর্মকর্তারাই বলতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, চলতি রমজানে ৩৮ দিন সরকার ঘোষিত ছুটি থাকার মধ্যে হামিদা আক্তার কোনো ধরনের অনুমোদন না নিয়েই আবারও ইতালি ভ্রমণ করেছেন বলে তথ্য রয়েছে। আমি তাকে তার পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করলেও তিনি এখনো তা জমা দেননি।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শিক্ষক হামিদা আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের আমি কৈফিয়ত দিতে বাধ্য নই। যদি কৈফিয়ত দিতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দেব।