ঢাকা | শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬,১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

পাবিপ্রবির নতুন উপাচার্য ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহাম্মদ শামীম। তিনি বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) স্কুল অব এগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট (এসএআরডি)-এর অধ্যাপক এবং ট্রেজারার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সহকারী সচিব মো. শাহ আলম সিরাজ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, যোগদানের তারিখ থেকে আগামী চার বছরের জন্য তাকে উপাচার্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে তিনি তার বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা পাবেন। এছাড়া বিধি অনুযায়ী পদ-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুবিধাও ভোগ করবেন। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তাকে সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে।

শিক্ষাজীবনে তিনি ১৯৯১ সালে মনাকষা হুমায়ুন রেজা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ১৯৯৩ সালে রাজশাহী সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। ১৯৯৭ সালে স্নাতক এবং ১৯৯৮ সালে একই বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন, উভয় পরীক্ষাতেই প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষে তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধীনে পরিচালিত বিভিন্ন দেশি-বিদেশি গবেষণা প্রকল্পে যুক্ত হন। ‘শিক্ষা কমিশন-২০০৩’-এ গবেষণা সহকারী হিসেবে কাজ করে প্রশংসা অর্জন করেন। পরে ২০০৫ সালে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়-এর কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন অনুষদে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন।

পরবর্তীতে জাপান সরকারের মনবুশো বৃত্তির আওতায় Okayama University থেকে পরিবেশ বিজ্ঞান বিষয়ে ২০১০ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

গবেষণা ও লেখালেখিতেও রয়েছে তার উল্লেখযোগ্য অবদান। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন জার্নাল ও গ্রন্থে তার ৪০টিরও বেশি গবেষণাপত্র এবং ৯টি বই প্রকাশিত হয়েছে। ভেষজ উদ্ভিদ ও মাটির স্ট্রেপটোমাইসিস (Soil Streptomyces spp.) প্রজাতি থেকে নতুন অ্যান্টিবায়োটিক ও কীটনাশক আবিষ্কার নিয়ে তার গবেষণা বিশেষভাবে সমাদৃত। এছাড়া তার রচিত একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির ‘কৃষিশিক্ষা’ প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র বই দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি কলেজে পাঠ্য হিসেবে পড়ানো হচ্ছে।