ঢাকা | শনিবার, ৯ মে ২০২৬,২৬ বৈশাখ ১৪৩৩

ইবির হলে বরাদ্দকৃত সিট না পেয়ে প্রভোস্ট কক্ষের সামনে বিছানা পেতে অবস্থান

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শহীদ জিয়াউর রহমান হলে কক্ষ বরাদ্দ পেয়েও সিটে উঠতে পারছেন না শিক্ষার্থীরা। হল প্রশাসনের কাছে গিয়েও মেলেনি কার্যকর সমাধান। এর প্রতিবাদে হলটির প্রভোস্ট কক্ষে তালা দিয়ে সেখানেই বিছানা পেতে অবস্থান নিয়েছেন তিন শিক্ষার্থী।

শনিবার (০৯ মে) বিকেল সাড়ে ৩ টার দিকে তারা এ অবস্থান নেয়।

প্রভোস্ট কক্ষের সামনে অবস্থান নেওয়া তিন শিক্ষার্থী হলেন আল হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবু বকর, ২২-২৩ বর্ষের মোবারক উল্লাহ এবং শারিরীক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের ২৩-২৪ বর্ষের তানভীর আরিফ। তারা হলটির যথাক্রমে ৩২৫, ২১৫ ও ৩২৭ নম্বর কক্ষ বরাদ্দ পেয়েছেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ- তারা হলটির নিয়মানুযায়ী সিট বরাদ্দের জন্য আবেদন করেছেন। আবেদনের পর ভাইবায় অংশগ্রহণ করে মেধার ভিত্তিতে সিট বরাদ্দ পেয়েছেন তারা। কিন্তু কক্ষে গিয়ে সিট খালি পাচ্ছেন না। বরাদ্দকৃত সিটে পূর্ব থেকেই অন্য শিক্ষার্থীরা অবস্থান করছেন। ঐসব রুমে তাদের অতিরিক্ত হিসেবে বরাদ্দ দিয়েছে হল প্রশাসন। একই সমস্যা আরো কয়েকটি কক্ষের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও হয়েছে। এদিকে হলটির কয়েকটি কক্ষে সিট ফাঁকা থাকালেও সেগুলোতে সিট বরাদ্দ দেওয়া হয় নি।

অবস্থান নেওয়া আল হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবু বকর বলেন, ৩২৫ নম্বর রুমে সিট বরাদ্দ পেয়েছি। ঐ কক্ষেই আগে থেকে ১ জন ছিলো। পরে আবারও নতুন ৩ টি সিট বরাদ্দ দিসে। তাই আমি ঐ কক্ষে আর সিট পাচ্ছি না। এদিকে হলে সিট পেয়ে গতমাস থেকেই আমি মেসের সিট ছেড়ে দিয়েছি। এখন হলে উঠতে না পেরে আর থাকার জায়গা পাচ্ছি না। এদিকে বর্তমান প্রভোস্টের মেয়াদ মাত্র ছয়দিন আছে। তিনি চলে গেলে পরবর্তী প্রশাসন সিট দিবে কিনা আমি জানি না।

শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়াবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানভীর আরিফ বলেন, আবেদনের পর আমাকে বৈধভাবে রুম নম্বর দেওয়া হলেও সেখানে গিয়ে দেখা যায় দুই সিটের রুমে ইতোমধ্যে তিনজন শিক্ষার্থী অবস্থান করছেন। চতুর্থ ব্যক্তি হিসেবে সেখানে থাকার কোনো পরিবেশ নেই। হলের অনেক রুমেই এভাবে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত শিক্ষার্থীকে বৈধ সিট দেওয়া হয়েছে, অথচ অনেক রুমে এক-দুজন বৈধ শিক্ষার্থীর পাশাপাশি অন্য হলের শিক্ষার্থীরা অবৈধভাবে থাকছেন। এ বিষয়ে হল প্রশাসনের কাছে বারবার অভিযোগ জানানো হলেও তারা কেবল দেখছি বা ধৈর্য ধরো বলে আশ্বস্ত করছেন, কিন্তু বাস্তবে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। এই সমস্যার কোনো দৃশ্যমান সমাধান না হওয়ায় আমরা আজ এ পথ বেছে নিয়েছি।

এ বিষয়ে হলটির প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আব্দুল গফুর গাজী বলেন, আমাকে হলের স্টাফরা যে তথ্য দিয়েছে তার ভিত্তিতে সিট বরাদ্দ দিয়েছি। কিন্তু সেই তথ্যে গড়মিল ছিলো। ফলে বর্তমানে সিট বরাদ্দের গড়মিল হয়েছে। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও আমাকে কোনো সহযোগিতা করেনি। এছাড়া আমি বর্তমানে ক্যাম্পাস ছেড়ে বাসায় চলে এসেছি। শিক্ষার্থীদের অবস্থানের বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারছি না।