পদোন্নতির দাবিতে দেওয়া আলটিমেটাম শেষে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষকেরা কঠোর কর্মসূচি শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে রোববার সন্ধ্যা থেকে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অনশন শুরু করেছেন মৃত্তিকা ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. জামাল উদ্দিন। মঙ্গলবার শিক্ষকের কর্মবিরতি ও বুধবার থেকে লাগাতার একাডেমিক শাটডাউন শুরু হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পদে ২৪ জন, সহযোগী অধ্যাপক পদে ৩০ জন ও সহকারী অধ্যাপক পদে ৬ জন পদোন্নতির দাবি করে আসছেন। এ জন্য তারা উপচার্যকে আলটিমেটাম দিয়েছিলেন। রোববার সেই আলটিমেটামের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে অনশনে বসে সহযোগী অধ্যাপক জামাল উদ্দিন।
জামাল উদ্দিন বলেন, ২ বছর ধরে শিক্ষকদের কোনো পদোন্নতি হচ্ছে না। অনেকের ৬ মাস আগে পদোন্নতির সময় হয়েছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা না নেয়ায় তিনি অনশনে বসেছেন।
একই দাবিতে অন্যান্য শিক্ষকরা কঠোর কর্মসূচি নেওয়ার বিষয়ে সোমবার দুপুর বৈঠকে বসেন। সন্ধ্যায় প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তারা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। মঙ্গলবার একদিনের কর্মবিরতি পালন করা হবে। এরপরও সুরাহা না হলে বুধবার থেকে পূর্ণাঙ্গ শাটডাউন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম অচল করে দেবেন।
এতে আরও বলা হয়, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদন নিতে যে পরিপত্র জারি হয়, তার দুইমাস আগে ববির ২৪ শিক্ষকের পদোন্নতি সংক্রান্ত নিয়োগ বোর্ডের বৈঠক ও সুপারিশ শেষ হয়েছে। তাই ববির শিক্ষকদের পদোন্নতিতে ইউজিসির আইনের লঙ্ঘন হবে না।
মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল কাইউম শিক্ষকদের এ কর্মসূচির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমাদের আর আন্দোলনে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই। উপচার্যের জন্য আমাদের ৬০ জন শিক্ষকের অধিকার ও সম্মান ক্ষুন্ন হচ্ছে।’
উপচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক- কর্মকর্তাদেও পদোন্নতিতে অভিন্ন নীতিমালা দিয়েছে ইউজিসি। এসব বিষয় নিয়ে বৃহস্পতিবার ইউজিসির সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকের রেজুলেশন এখন পাননি। সেটি পাওয়ার পর ববিতে সৃষ্ট সমস্যার সমাধান হবে। ওই সময় পর্যন্ত ধৈর্য্য ধরতে শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।





