মাদারীপুরে সদর উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের আশ্বাস দিয়ে ২০ শিক্ষার্থীর প্রায় ৩ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়েছেন একটি স্কুলের খণ্ডকালীন সহকারী শিক্ষক ও অফিস সহকারী। ফলে তাদের এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র আসেনি। এতে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া এখন প্রায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে তাদের। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে ঘটনার প্রতিবাদে বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
অভিযুক্তরা হলেন- মাদারীপুর সদর উপজেলার মোস্তফাপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন সহকারী শিক্ষক (গণিত) ও অফিস সহকারী নুর আলম লিটন।
জানা গেছে, মাদারীপুর সদর উপজেলার মোস্তফাপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসির মূল্যায়ন পরীক্ষায় দুই বিষয়ে ফেল করে ২০ পরীক্ষার্থী। পরে তাদেরকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের আশ্বাস দেন শিক্ষক সোহেল মোড়ল ও অফিস সহকারী লিটন। এ জন্য তারা প্রত্যেক শিক্ষার্থীর থেকে ১৫ হাজার টাকা করে নেন। কিন্তু ফরম পূরণের জন্য নেওয়া ৩ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা দেননি সহকারী শিক্ষক ও অফিস সহায়ক। এদিকে ওই ২০ জন পরীক্ষার্থী রোববার (১৯ এপ্রিল) সকালে বিদ্যালয়ে প্রবেশপত্র আনতে গেলে, তখন জানানো হয় তাদের প্রবেশপত্র আসেনি।
এরপর দুইদিন ধরে বিদ্যালয় মাঠে জড়ো হয়ে প্রবেশপত্র পাওয়ার দাবি তোলেন ভুক্তভোগীরা। এছাড়া অভিযুক্তদের বিচার দাবিতে আন্দোলন শুরু করে।
এরই জেরে সোমবার সকালে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা স্কুল মাঠে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। খবর পেয়ে প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে উপজেলা প্রশাসন। এসময় মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াদিয়া শাবাব ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিভাবক-শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কাছ থেকে ঘটনা কথা শোনেন। পরে তিনি বিচারের আশ্বাস দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। এসময় তিনি অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক ও অফিস সহকারীকে সাময়িক বরখাস্ত ও আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে শিক্ষার্থীদের টাকা ফেরত দেওয়ার কথা জানান।
এদিকে উপস্থিত ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, মূল্যায়ন পরীক্ষায় এই বিদ্যালয়ে সব বিষয়ে মাত্র ৩৫ জন পাশ করেছে। কিন্তু প্রবেশপত্র এসেছে ১২০ জনের। তাহলে তাদের দোষ কোথায়। প্রবেশপত্র কেন আসেনি।
শিক্ষার্থী আবৃত্তি শিকদার বলেন, আমার কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা নিয়েছে সোহেল স্যার। আমি প্রস্তুতি নিয়েছিলাম পরীক্ষা দেওয়ার। কিন্তু প্রবেশপত্র আসেনি। এক বছর পিছিয়ে গেলাম। এই ঘটনার জন্য বিচার চাই। এই বিদ্যালয়ে প্রায়ই নানান ঘটনা ঘটে, কিন্তু কোনো বিচার না হওয়ায় এই বিদ্যালয়ে অপরাধ ঘটতেই থাকে। আমি মানসিকভাবে অনেক ভেঙে পড়েছি। পরীক্ষা দিতে না পারলে আত্মীয়-স্বজনদের কাছে মুখ দেখাবো কীভাবে। পরীক্ষা দিতে না পারলে আত্মহত্যা করবো।
শিক্ষার্থী আয়েশা আক্তারের বাবা সুমন খান বলেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলে তাদের কঠিন বিচার হওয়া উচিত। এই ঘটনায় প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক দায় নিতে চায় না। তারাও জড়িত থাকতে পারে। আমরা সবাই সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার চাই।
মোস্তফাপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান খান বলেন, ঘটনার পর মোবাইল ফোন বন্ধ করে লাপাত্তা অভিযুক্ত শিক্ষক ও অফিস সহকারী। তাদের দোষ পাওয়া গেলে আমরা বিচার চাই। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না।
মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াদিয়া শাবাব বলেন, এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক বোরহান উদ্দিনকে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনের পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া অভিযুক্ত দুইজনকে সাময়িক বরখাস্ত করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের টাকা আগামী ৫ দিনের মধ্যে ফেরত দিতে বলা হয়েছে।





