ঢাকা | মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬,৮ বৈশাখ ১৪৩৩

জবিতে ‘অপারেশন সার্চলাইট ও মুক্তিযুদ্ধের সূচনা’ বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ‘অপারেশন সার্চলাইট ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সূচনা: ইতিহাসের প্রামাণ্য আখ্যানের সন্ধানে’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও দর্শন বিভাগের যৌথ আয়োজনে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্‌দীন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৬ বছর পরও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ও নির্ভুল ইতিহাস রচিত হয়নি, যা জাতির জন্য দুঃখজনক। তিনি মুক্তিযুদ্ধে সাধারণ জনগণের পাশাপাশি পুলিশ, আনসার ও ইপিআর সদস্যদের অবদানের কথা উল্লেখ করে ইতিহাস রচনায় নির্মোহতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি মিথ্যা ও বিকৃত ইতিহাস পরিহার করে বাস্তবভিত্তিক ও নিরপেক্ষ ইতিহাস প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একইসঙ্গে শহীদের সঠিক সংখ্যা ও শহিদ বুদ্ধিজীবীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা নির্ধারণে এখনো ঘাটতি রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন।

সেমিনারে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ড. সলিমুল্লাহ খান। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের রাত শুধু একটি সামরিক অভিযান নয়; ‘অপারেশন সার্চলাইট’ ছিল পাকিস্তানি সামরিক জান্তার পরিকল্পিত দমন-পীড়ন। মুক্তিযুদ্ধের সূচনাপর্ব বোঝার জন্য রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস দীর্ঘদিন একটি নির্দিষ্ট রাষ্ট্রীয় বয়ানের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, ফলে বিকল্প দৃষ্টিভঙ্গি উপেক্ষিত হয়েছে। প্রামাণ্য ইতিহাস রচনায় প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান, আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও সমকালীন দলিল ব্যবহারের আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞ আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে গণহত্যার শামিল। তবে এসব ঘটনার পূর্ণাঙ্গ দলিলীকরণ এখনো অসম্পূর্ণ, যা আন্তর্জাতিক পরিসরে যথাযথভাবে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক (গবেষণা) অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও দর্শন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে প্রাথমিক সাক্ষ্য ও নির্ভরযোগ্য উৎসের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। শহীদের সংখ্যা নির্ধারণে আরও গবেষণার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স পরিচালক অধ্যাপক ড. নাছির আহমাদ ‘অপারেশন সার্চলাইট’-কে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে মার্চ ১৯৭১-এর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন বলেন, স্বাধীনতার এত বছর পরও শহীদের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি, যা একটি বড় সীমাবদ্ধতা। তিনি ১৯৭৪ সালের আদমশুমারিতে এ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের অভাবের কথা উল্লেখ করেন এবং নির্মোহ ইতিহাস প্রণয়নের ওপর জোর দেন।

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঞ্জুর মুর্শেদ ভূঁইয়া। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ড. মোঃ আনিসুর রহমান।
সেমিনারের শেষে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকদের অংশগ্রহণে একটি প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।