ঢাকা | রবিবার, ৩১ মে ২০২৬,১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ঢাবিতে উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে বিতর্ক, পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবৈধ দোকান এবং ভবঘুরে ও ভাসমানদের উচ্ছেদ অভিযানে দোকানিদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে, যা আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এ. বি. জুবায়ের। তার নেতৃত্বে পুলিশ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একটি দল অভিযানে অংশ নেয়।

অভিযান চলাকালে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে থাকা দোকানগুলোতে ভাঙচুর চালাতে যেমন দেখা গেছে, তেমনি কয়েকজন দোকানির অভিযোগ—অভিযানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা তাদের চড়-থাপ্পড় মেরেছেন।

উচ্ছেদ হওয়াদের একজন জসিম উদ্দিন বলেন, “আমার দোকান ভাংচুর করছে। আমি না ভাঙতে বললে আমাকে চড় মারে।”

উচ্ছেদ কর্মসূচিতে হকারকে রাস্তায় ফেলে মারতে দেখা গেছে প্রক্টরিয়াল টিমের এক সদস্যকে।

এদিকে শনিবার বিকালেই দোকান ভাঙচুর ও মারধরের প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ দেখান ভাসমান দোকানিরা। তাতে সংহতি প্রকাশ করে অংশ নেন বামপন্থি ছাত্রসংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মী।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সদস্য ইশরাত ইমু বলেন, “আমি দোয়েল চত্বর থেকে আসছিলাম। তখন দেখলাম যে, ডাকসু নেতাসহ উচ্ছেদ অভিযানে কয়েকজন হকারকে থাপ্পর দিচ্ছে। আবার মেট্রোরেলের নিচে আসলে দেখলাম যে তারা এক কোক বিক্রেতাকে থামিয়ে মারধর করছে। তাই আমি যেহেতু দেখেছি মারধর করছে, আমরা সেই মারধরের প্রতিবাদে সংহতি জানিয়ে হকারদের বিক্ষোভে অংশ নিই।

তিনি আরও বলেন, “আমরাও চাই যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভাসমান ও ভবঘুরে মুক্ত থাকুক। তবে তাদের মারধর করে এভাবে বিতাড়িত করার পক্ষে আমরা না।”

তাদের এ বিক্ষোভের প্রতিবাদে পাল্টা বিক্ষোভ করেন ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়েরসহ কয়েকজন।

বিক্ষোভ শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গেইট সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বসা কয়েকটি দোকান উচ্ছেদে যান তারা। এসময় এনসিপি নেতা মীর আরশাদুল ইসলামের সাথে বাগবিতণ্ডায় জড়ান ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের। এসময় এ বি জুবায়ের ও তার সঙ্গীদের আক্রমণাত্মক দেখতে পাওয়ার কথা জানিয়েছেন একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী।

এ ঘটনার ‘প্রতিবাদ’ জানিয়ে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়ের, সদস্য সর্বমিত্র চাকমা, সূর্যসেন হলের ভিপি আজিজুল হকসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রক্টর অফিসের সামনে বিক্ষোভ করেন। রাত সাড়ে ১১টায় তারা সহকারী প্রক্টরের সঙ্গে বৈঠকে বসেন এবং মিছিলকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ কয়েকটি দাবি জানান।

বৈঠকে সর্বমিত্র চাকমা প্রশাসনের কাছে রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একইসঙ্গে যেসব শিক্ষার্থী মিছিলে অংশ নিয়েছেন, তাদের ভিডিও প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করবেন বলে সেখানে ঘোষণা দেন।

ওই বৈঠক শেষে সহকারী প্রক্টর রফিকুল ইসলাম বলেন, যারা মিছিলে অংশ নিয়েছেন, তাদের শোকজ করা হবে, এটা নিশ্চিত। আমাদের আইনের মধ্যে থেকে আর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায় কি না, এটা আমরা প্রক্টরের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেব। আমরা ক্যাম্পাসে কোনো অবৈধ দোকান অ্যালাও করছি না। ফলে যেখানে দোকান আছে, তা আমরা সরিয়ে দিচ্ছি। খুব চাপে পড়ে আমরা গত তিনদিন ধরে অভিযান পরিচালনা করেছি। অভিযান শুরু করায় কিছু শিক্ষার্থী এটার বিরোধিতা করেছেন, তারা বামপন্থি ব্লকের বলে আমরা জেনেছি।

প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা মিছিলে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিব। আমাদের বিকালে মিটিং আছে। মিটিং শেষে প্রচলিত নিয়মে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দোকানিদের মারধরের বিষয়ে জানতে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়েরকে কয়েকবার ফোন করা হলেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।

ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বিভিন্ন কনসার্ন সম্পর্কে অবগত করছি। বাকিটা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দেখছেন।

মারধরের বিষয়ে জানতে চাইলে সাদিক বলেন, “আমার পুরো ঘটনার পূর্বাপর জানতে হবে। এ বিষয়ে না জেনে তো মন্তব্য করতে পারি না।”

দোকান ভাঙচুর, দোকানিদের মারধরে বিষয়ে জানতে রোববার বিকালে প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমদকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তার সাড়া মেলেনি।

সূত্র: বিডিনিউজ