বাংলাদেশের গাজীপুরের একটি মসজিদের ইমাম মুফতি মুহিবুল্লাহ মিয়াজী চলমান সামাজিক অবক্ষয়, পারিবারিক মূল্যবোধ ও উগ্রপন্থী সংগঠনের কার্যক্রম নিয়ে জুমার খুতবায় বয়ান করার পর থেকে ১২ বার চিঠি দিয়ে তাকে হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে গত ২১ অক্টোবর পুনরায় তাকে হুমকি দেওয়া হয়। এরপর ২২ অক্টোবর বুধবার তিনি নিখোঁজ হন। এই পুরো ঘটনাটিই ছিলো পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ এই ঘটনায় একটা সংখ্যালঘু ধর্মীয় সংগঠনকে দায়ী করে এভাবে সামনে আনার চেষ্টা করা হোয়েছে যখন সংখ্যালঘু ইস্যুটি স্বাভাবিক হোয়ে আসছে।
এই নাটকটা করার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিলো আবার মুসলিম সম্প্রদায়ের আবেগকে কাজে লাগিয়ে হিন্দুদের উপর হামলার নাটক সাজিয়ে সারা বিশ্বে যেনো দেখাতে পারে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে এবং বাংলাদেশে উগ্র চরমপন্থি ইসলামী দলের উথ্যান ঘটেছে। এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে আবার মানবাধিকার সংগঠনগুলো সংখ্যালঘু নির্যাতনের জন্য নিন্দা করতো বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বোঝানো হতো বাংলাদেশের পরিস্থিতি ভালো না তাই বিদেশী বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করা হতো বিনিয়োগ করতে এই পরিকল্পনা ফাঁস হোয়ে যাওয়ার পর সংখ্যালঘু ট্রাম্পকার্ড বানচাল হোয়ে যাওয়ায় তারা পরবর্তী ভয়ংকর গুজব ট্রাম্পকার্ড খেলেছে।
যেহেতু রাজধানীতে প্রায় লক্ষাধিক আওয়ামী লীগের নেতা কর্মী আত্মগোপনে আছে। বিদেশি একটা রাস্ট্র মনে করছিলো হাসিনার মৃত্যুর খবর বাংলাদেশে পৌঁছা মাত্রই বড় ধরনের গন্ডগোল তৈরী হবে, জ্বালাও পোড়াও হবে, বহুলোক হাসিনার মৃত্যুতে শোক মাতম করবে, শোক মিছিল নিয়ে ইউনুসের যমুনা ঘেরাও করবে। আর পুলিশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা যমুনা রক্ষা করার জন্য সেই শোক মিছিলে গুলি করে বহু লোককে হতাহত করবে। অবশেষে ইউনুসের উপর গণহত্যার দায় দিবে এবং ইউনুস পালাবে। কিন্ত পরিস্থিতি দেখা গেল পুরো উল্টো! হাসিনার মৃত্যুর খবর বাংলাদেশে রসিকতার জন্ম দিলো। সেই দুই দিনে হাসিনার মৃত্যুর খবরে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে রসিকতা ছাড়া কোন ক্ষোভ দেখতে না পেরে কোন শোক দেখতে না পারে তাই গুজব ছড়ানোর দুই দিন পর বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের অফিসিয়াল পেজ থেকে হাসিনার মৃত্যুর খবরকে গুজব বলে প্রেসলিজ প্রকাশ করেছে।
এই গুজব ছড়ানোর ঘটনার পর ফল না পাওয়ায় ভারতের বুঝা উচিত হাসিনা এখন বাংলাদেশের রাজনীতিতে ডাস্টবিন এর ময়লা ছাড়া আর কিছুই নয় যার শরীর ও মুখ থেকে দুর্গন্ধ ছাড়া আর কিছুই ছড়ায় না!
তবে ছবিটির সত্যতা যাচাইয়ের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য। ছবিটি আসলে শেখ হাসিনার নয়, বরং প্রতিবেশী দেশ ভারতের ভিন্ন এক নারীর। প্রযুক্তির অপব্যবহার কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভুল ব্যাখ্যার মাধ্যমে এই ছবিটি বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ছবি হিসেবে প্রচার করা হচ্ছিল। এই ধরনের মিথ্যা দাবি রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা নাকি শুধুমাত্র মনোযোগ আকর্ষণ করার কৌশল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এধরনের গুজব ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর বিরুদ্ধে সরকার কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেবে বলেও সংশ্লিষ্ট মহল থেকে জানানো হয়েছে।
মনি,
সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।









