ঢাকা | শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬,৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩

বিশ্ববিদ্যালয় ও হলের নামে ফেসবুক পেজ খুলে ‘গুপ্ত’ রাজনৈতিক কার্যক্রমের অভিযোগ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ও বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ছাত্রী আবাসিক হল ‘নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হল’ এর নাম ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একাধিক অননুমোদিত পেজ পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। এসব পেজ বিশ্ববিদ্যালয় বা সংশ্লিষ্ট হলের অফিসিয়াল পেজ নয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয় ও হলের নাম-পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন পোস্ট, মতামত ও রাজনৈতিক ইস্যুতে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীদের একটি অংশ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খোজ নিয়ে দেখা যায়, ‘নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হল, জবি’ নামে একটি ফেসবুক পেজে প্রায় ১ দশমিক ৩ হাজার ফলোয়ার ও ৯৯৪টি পোস্ট রয়েছে। পেজটির পরিচিতিতে এটিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ছাত্রী হল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় – Jagannath University, Dhaka’ নামে আরেকটি ফেসবুক পেজে প্রায় ৬৬ হাজার ফলোয়ার ও ৪ দশমিক ৯ হাজার পোস্ট রয়েছে। পেজটির পরিচিতিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত।এমন তথ্য উল্লেখ করার পাশাপাশি ইংরেজিতে স্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে, “This is NOT JnU official page.”

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় ও আবাসিক হলের নাম, লোগো এবং পরিচয় ব্যবহার করায় এসব পেজকে অনেক সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে অফিসিয়াল বা প্রশাসন-সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্ম বলে মনে হতে পারে। ফলে পেজগুলোতে প্রকাশিত কোনো বক্তব্য বা পোস্টকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কিংবা সংশ্লিষ্ট হল কর্তৃপক্ষের অবস্থান হিসেবে ভুল বোঝার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে এসব পেজের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় বা হলের পরিচয়কে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী রাজনৈতিক প্রচারণা চালালে এর মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

অভিযোগ রয়েছে, এসব পেজের আড়ালে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় অনেক ক্ষেত্রে স্পষ্ট নয়। ফলে পেজগুলোর মাধ্যমে পরিচালিত কার্যক্রমের সঙ্গে কারা যুক্ত এবং তাদের উদ্দেশ্য কী তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে এসব পেজের সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠন, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ কারণে ‘গুপ্ত রাজনৈতিক কার্যক্রম’ পরিচালনার অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রশাসনিক তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ও হলের নাম ব্যবহার করে পরিচালিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজগুলোর বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট অবস্থান জানানোর দাবিও উঠেছে।

শিক্ষার্থীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় ও আবাসিক হলের নাম, লোগো কিংবা পরিচয় ব্যবহার করে পরিচালিত ফেসবুক পেজগুলোর মধ্যে কোনগুলো অফিসিয়াল এবং কোনগুলো ব্যক্তিগত বা অননুমোদিত তা স্পষ্টভাবে জানানো প্রয়োজন। পাশাপাশি অননুমোদিত কোনো পেজের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য, অপপ্রচার কিংবা রাজনৈতিক প্রচারণা চালানো হলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।