ঢাকা | শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬,৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩

মাভাবিপ্রবিতে ইউজিসির নির্দেশ উপেক্ষা: ৩ বছরেও হলে নেই নেট

উচ্চশিক্ষায় ডিজিটাল সুবিধা সম্প্রসারণ ও শিক্ষার্থীদের গবেষণা সহজতর করতে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে আগামী ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে ফ্রি ওয়াই-ফাই চালুর নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। ২৫ মার্চ ইউজিসি চেয়ারম্যান ড. মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিডিরেন-এর সহায়তায় লাইব্রেরি, কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়াসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ফ্রি ওয়াই-ফাই চালুর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যায়নি।

​ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের টানা তিনটি প্রশাসনের আমল পার হয়ে গেলেও হলের ইন্টারনেট সমস্যার কোনো সমাধান হয়নি। প্রায় তিন বছর আগে দুটি নতুন আবাসিক হল নির্মিত হলেও আজ পর্যন্ত সেগুলোকে ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের আওতায় আনা যায়নি। একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন প্রশাসনের মেয়াদ গড়ালেও এমন মৌলিক সুবিধা না থাকা নিয়ে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে শিক্ষার্থীদের মাঝে।

​শুধু ইন্টারনেট সংযোগই নয়, ওই হলগুলোতে আজও মেলেনি রান্নার গ্যাস সরবরাহ। গ্যাস সংকট ও ইন্টারনেটের অভাবে নিত্যদিনের পড়ালেখা ও জীবনযাত্রায় তীব্র ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে আবাসিক শিক্ষার্থীদের। এছাড়া রসায়ন (কেমিস্ট্রি) বিভাগের মতো নবনির্মিত আইটি ল্যাবে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে একটিও কম্পিউটার বা ইন্টারনেট সংযোগ চালু করা হয়নি।

​হলে ইন্টারনেট না থাকার বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করে বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম শহিদুল ইসলাম বলেন, “তিন বছর আগে নির্মিত হলে আজও ইন্টারনেট না থাকা খুবই দুঃখজনক। ইউজিসি থেকে বিডিরেন-কে ফান্ড দেওয়ার পরও কেন কাজ হচ্ছে না তা স্পষ্ট নয়; আগামী সপ্তাহেই বিডিরেন-কে লিখিত চিঠি পাঠানো হবে।” তিনি আরও জানান, গত জুনে দায়িত্ব নেওয়ার পর বাজেটের ব্যস্ততা থাকলেও অতি দ্রুত হলের গ্যাস সরবরাহ, ইন্টারনেটের সংযোগ এবং ল্যাবের কম্পিউটার সমস্যা নিরসন করবেন।

​বিষয়টি নিয়ে বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. আনিছুর রহমান বলেন, “একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ইন্টারনেট সুবিধার বাইরে থাকবে,এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ইন্টারনেট ছাড়া শিক্ষার্থীরা কীভাবে গবেষণা করবে? বিগত তিন বছর ধরে কেন এই অবস্থা তা খতিয়ে দেখতে উপাচার্য স্যারের সঙ্গে অতি দ্রুত আলোচনা করে ব্যবস্থা নেব।”

​প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা ও বিগত তিন প্রশাসনের উদাসীনতার অবসান ঘটিয়ে ইউজিসির নির্দেশনামোতাবেক অতি দ্রুত ক্যাম্পাসজুড়ে ফ্রি ওয়াই-ফাই নিশ্চিতসহ হল ও ল্যাবগুলোর সমস্যা সমাধানের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।