ঢাকা | মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬,৮ বৈশাখ ১৪৩৩

শিক্ষার্থীদের সিট সমস্যার সমাধান না হলে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধের হুঁশিয়ারি

প্রথম বর্ষের নিয়মিত শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট দ্রুত সমাধান না হলে ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ।

তিনি অভিযোগ করেন, ডাকসুর পক্ষ থেকে একাধিকবার নিষেধ করা সত্ত্বেও যুবদল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন পদে যুক্ত প্রায় ৩৬ জন শিক্ষার্থীকে সিট বরাদ্দ নীতিমালা লঙ্ঘন করে বিশেষ সুবিধার মাধ্যমে আবাসন দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) ২০২৫–২৬ সেশনের শিক্ষার্থীদের সিট সমস্যা সমাধান, রেজিস্ট্রার ভবনের ধারাবাহিক অসঙ্গতি এবং শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি নিরসনের দাবিতে ডাকসুর উদ্যোগে রেজিস্ট্রার ভবন ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচি শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ডাকসু নেতারা। পরে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন এস এম ফরহাদ।

সংবাদ সম্মেলনে ফরহাদ জানান, বিগত প্রশাসনের কাছেও তারা দাবি জানিয়েছিলেন, প্রথম বর্ষের যেসব শিক্ষার্থীকে সিট বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হবে না, তাদের আবাসিক বৃত্তির আওতায় আনতে হবে। সে সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, চলতি বছর সীমিতসংখ্যক শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়া হলেও পরবর্তী বছর থেকে সবাইকে এ সুবিধার আওতায় আনা হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, এ বছর সিট বরাদ্দ নিশ্চিত না করেই ক্লাস শুরু করে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা কোথায় থাকবে, কীভাবে খাবে এসব নিয়ে কেউ ভাবছে না। ডাকসুতে প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা এসে হতাশা প্রকাশ করছেন। আমরা প্রায় পাঁচ মাস ধরে চেষ্টা করেছি, যেন এ বছর আবাসন নিয়ে কোনো জটিলতা না তৈরি হয়। আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছি, অনানুষ্ঠানিকভাবেও জানিয়েছি। প্রতিটি হলের প্রভোস্টের সঙ্গে দেখা করেছি। হল সংসদের ভিপি-জিএসরা জানিয়েছে। প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটিকেও অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

তিনি দাবি জানিয়ে বলেন, সিট বরাদ্দ নীতিমালা শতভাগ বাস্তবায়ন করতে হবে। আর যাদের আবাসনের ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়, তাদের জন্য আবাসিক বৃত্তি চালু করতে হবে। অন্যথায় সিট ছাড়া ক্লাস চালিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর এক ধরনের নির্যাতন ছাড়া আর কিছু নয়।

ফরহাদ জানান, উপাচার্য তাদের আশ্বস্ত করেছেন যে আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোথায় কতটি সিট খালি আছে, তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানানো হবে।

যুবদল ও ছাত্রদলের ৩৬ জন নেতাকর্মীকে সিট বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে এস এম ফরহাদ বলেন, আমরা যখন জবাব চেয়েছি, তখন বলা হয়েছে নীতিমালা অনুসারে সিট দেওয়া হয়েছে। পরে আমরা নীতিমালার কপি দেখালে তারা স্বীকার করে—এগুলো বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে।

এ কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন— ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ, সমাজসেবা সম্পাদক এবি জোবায়েরসহ ডাকসুর অন্যান্য নেতারা।