মানবাধিকার দিবস ২০২৫ উপলক্ষে সেন্টার ফর মেরিটাইম পলিসি স্টাডিজ (CMPS) তাদের প্রথম ইন-পার্সন ইভেন্ট হিসেবে “মানবাধিকার দিবস ২০২৫: সমুদ্রে মানবাধিকারের পর্যালোচনা” শীর্ষক একটি বিশেষ সেমিনারের আয়োজন করে। বুধবার দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে আন্তর্জাতিক জলসীমায় মানবাধিকার সুরক্ষা ও তার বাস্তব প্রয়োগ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
পৃথিবীর প্রায় ৭০ শতাংশ জলরাশিতে কর্মরত ও ভ্রমণকারী মানুষের অধিকার প্রায়ই উপেক্ষিত থাকে, এই বাস্তবতা থেকে বেরিয়ে আসতে CMPS মানবাধিকারকে উপকূলের সীমানার বাইরে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানায়। সেমিনারে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও সমুদ্র আইনের মধ্যকার সমন্বয়কে আরও শক্তিশালী করার গুরুত্বও তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানের সূচনা হয় কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে। অনুষ্ঠানে প্রথমেই বক্তব্য রাখেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর এস. এম. তাসমিরুল ইসলাম। তিনি পূর্ববর্তী সরকারের আমলে গুমের বিভিন্ন ঘটনা ও গুমের কারণে বিপর্যস্তদের কথা তুলে ধরেন। তিনি আরো জানান, শেখ হাসিনার আমলে বিচারবহির্ভূতভাবে বহু মানুষকে আটক, জুডিশিয়াল কিলিং এবং গুম করা হয়েছে।
এরপর বক্তব্য রাখেন মেরিটাইম ল অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্টের ড. মুহাম্মদ ফয়জ-উদ-দিন। তিনি আইনি কাঠামোর সীমাবদ্ধতা ও সম্ভাবনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরেন।
এরপর বক্তব্য রাখেন মেরিটাইম শিপিং ম্যানেজমেন্ট অনুষদের ডিন কমডোর মোঃ আতিকুর রহমান। তিনি সমুদ্রে মানবাধিকার নিশ্চিন্তে বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন এবং মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি শিক্ষার্থীদের সমুদ্রের নানা বিষয়ে সচেতন হতে উদ্বুদ্ধ করেন।
পরবর্তীতে বক্তব্য প্রদান করেন মেরিটাইম ল এন্ড পলিসি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম এবং মেরিটাইম ল এন্ড পলিসি বিভাগের প্রভাষক সাইয়েদ জাকারিয়া বকশ ইমরান। সর্বশেষ বক্তব্য রাখেন মেরিটাইম গভর্নেন্স এন্ড পলিসি অনুষদের ডিন কমডোর এম. মামুনুর রশিদ।
বক্তারা নাবিক, সামুদ্রিক অভিবাসী ও সমুদ্রনির্ভর কর্মীদের সুরক্ষায় বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আলোকপাত করেন। একইসঙ্গে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট, বৈশ্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি, এবং সমসাময়িক মানবিক সংকট নিয়েও আলোচনা উপস্থাপন করা হয়।
আলোচনা শেষে উন্মুক্ত সংলাপ পর্বে অংশগ্রহণকারীরা সমুদ্র ও স্থল উভয়ক্ষেত্রে মানবাধিকার রক্ষায় আরও কার্যকর নীতি গ্রহণের ওপর সুপারিশ প্রদান করেন।
সমুদ্রভিত্তিক মানবাধিকার সুরক্ষায় এই আয়োজন ভবিষ্যতে নীতিনির্ধারণ ও গবেষণায় নতুন দিক তৈরি করার সম্ভাবনা সৃষ্টি এবং সমুদ্রের কর্মপরিবেশকে আরও নিরাপদ ও মানবিক করার প্রয়াসে এমন উদ্যোগ বাংলাদেশের মেরিটাইম সেক্টর কে আরো সম্ভাবনাময় করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।







