ঢাকা | শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬,২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ভয়াবহ এল নিনো আসছে, প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার

সামনের মাসগুলোতে আরও গরম হতে পারে পৃথিবী, বাড়তে পারে খরা ও অন্যান্য চরম আবহাওয়ার ঘটনা। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা বলছে, এর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে মাঝারি থেকে শক্তিশালী এল নিনো। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর প্রভাব শুধু আবহাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বাড়তে পারে সংক্রামক রোগের ঝুঁকিও।

বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে মাঝারি থেকে শক্তিশালী এল নিনো। মঙ্গলবার এমন পূর্বাভাস দিয়ে বিশ্ববাসীকে সতর্ক করেছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)। একই সঙ্গে সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

এল নিনো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা, যার ফলে মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যায়। ডব্লিউএমও বলছে, জুন থেকে আগস্টের মধ্যে এল নিনো শুরু হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৮০ শতাংশ। এর প্রভাব বছরের শেষ ভাগ পর্যন্ত থাকতে পারে।

তবে এল নিনোর প্রভাব শুধু তাপপ্রবাহ বা খরার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি সংক্রামক রোগের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।

নিপাহ ভাইরাস আবিষ্কারকারী দলের অন্যতম সদস্য এমেরিটাস অধ্যাপক দাতুক ড. লাম সাই কিট জানান, নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে মালয়েশিয়ায় নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পেছনে শক্তিশালী এল নিনো সহায়ক ভূমিকা রেখেছিল।

তাঁর মতে, খরা ও বন অগ্নিকাণ্ডের কারণে বাদুড়ের আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হলে তারা লোকালয়ের কাছাকাছি চলে আসে, যা প্রাণী ও মানুষের মধ্যে ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি, খরা ও বন্যার মতো পরিস্থিতি মশা ও অন্যান্য রোগবাহক প্রাণীর বিস্তারকে প্রভাবিত করে। এতে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়াসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের আশঙ্কা বাড়তে পারে।

তাই সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় এখন থেকেই রোগ পর্যবেক্ষণ ও জনস্বাস্থ্য প্রস্তুতি জোরদারের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।