ঢাকা | শনিবার, ২৩ মে ২০২৬,৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য

রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের স্কুলছাত্রী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

জবানবন্দিতে দ্বিতীয় শ্রেণির এই শিশুটিকে বাথরুমে নিয়ে নির্যাতন, শ্বাসরোধে হত্যা এবং পরবর্তীতে প্রমাণ লোপাটের জন্য লাশ ক্ষতবিক্ষত করাসহ স্বামী-স্ত্রীর বর্বরতার এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।

গত বুধবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আসামির এই জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

আদালত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, নিহত রামিসার পরিবার এবং অভিযুক্ত সোহেল রানা সপরিবার পল্লবীর একটি ভবনের একই তলায় পাশাপাশি কক্ষে থাকতেন।

জবানবন্দিতে সোহেল রানা জানান, গত ১৯ মে সকাল ৯টার দিকে রামিসাকে দেখে তার মধ্যে বিকৃত লালসা জাগে। মাদকাসক্ত সোহেল তখন কৌশলে শিশুটিকে ডেকে নিজের ঘরে নিয়ে যান এবং বাথরুমে আটকে রেখে তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালান।

নির্যাতনের পর অবুঝ শিশুটি এই ঘটনা বাবা-মাকে বলে দেওয়ার কথা জানালে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন সোহেল। অপরাধ ধামাচাপা দিতে তিনি বাথরুমের ভেতরেই রামিসাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।

জবানবন্দিতে আসামি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের পরপরই তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার বিষয়টি জানতে পারেন। তবে পুলিশকে জানানোর পরিবর্তে স্বামীকে বাঁচাতে তিনি লাশ গুমের পরিকল্পনায় মেতে ওঠেন।

প্রমাণ নষ্ট করার জন্য তারা একটি ধারালো ছুরি দিয়ে শিশুটির মাথা শরীর থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে ফেলেন।

এ ছাড়া রামিসার দুই হাত কাঁধের কাছ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করাসহ তার শরীর ক্ষতবিক্ষত করা হয়। পরে রক্তমাখা মস্তকবিহীন দেহটি বাথরুম থেকে এনে শোবার ঘরের খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়।

এদিকে মেয়েকে স্কুলে পাঠানোর জন্য সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খুঁজতে বের হন রামিসার মা। তিনি প্রতিবেশী সোহেলের কক্ষের সামনে এসে মেয়ের উপস্থিতি টের পেয়ে দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন।

এ সময় মূল অভিযুক্ত সোহেলকে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে তার স্ত্রী স্বপ্না দীর্ঘক্ষণ দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে রাখেন। সোহেল পালিয়ে যাওয়ার পর স্বপ্না দরজা খোলেন।

মামলার এজাহারে রামিসার বাবা উল্লেখ করেন, প্রতিবেশীদের সহায়তায় ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করার পর শয়নকক্ষের মেঝেতে তাঁদের মেয়ের মস্তকবিহীন দেহ এবং খাটের নিচে বিচ্ছিন্ন মাথাটি পড়ে থাকতে দেখেন।

এই হত্যাকাণ্ডের সময় সোহেলের সঙ্গে অজ্ঞাতপরিচয় আরও এক ব্যক্তি ঘরের ভেতর উপস্থিত ছিল বলে এজাহারে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, জবানবন্দি রেকর্ডের পর মূল আসামি সোহেল রানাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই নৃশংস অপরাধে সহায়তাকারী তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সবার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে পুলিশ নিবিড়ভাবে তদন্ত করছে।