জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার একটি কমিউনিটি ক্লিনিক-সংলগ্ন ডোবায় বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ ভাসছে। ডোবার পানিতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ট্যাবলেট, ক্যাপসুল, সিরাপসহ বিভিন্ন ধরনের ওষুধ দেখে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
শুক্রবার সকাল থেকে এসব ওষুধ ভাসমান অবস্থায় থাকার ভিডিও এবং ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। সরকারি স্বাস্থ্যসেবার জন্য বরাদ্দ করা এসব ওষুধ কীভাবে ডোবায় এসে পড়ল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।
ডোবায় ভাসমান সরকারি ওষুধের ভিডিও এবং ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নড়েচড়ে বসেছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কীভাবে বিপুল পরিমাণ ওষুধ পানিতে গিয়ে পড়ল, এর সঙ্গে কারা জড়িত এবং কোনো ধরনের অবহেলা বা অনিয়ম হয়েছে কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে কমিটিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিকেলের দিকে উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের ধনতলা কমিউনিটি ক্লিনিকের পাশের ডোবায় বিপুল পরিমাণ ওষুধ ভাসতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। ডোবায় ওষুধ ভাসতে থাকার খবর পেয়ে শুক্রবার সকাল থেকে স্থানীয় লোকজন সেখান ভিড় করতে থাকেন। তাঁদের ধারণা, এসব ওষুধ ওই ক্লিনিকের ছিল।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেলগাছা ইউনিয়নের ধনতলা কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্য সহকারী মো. মিস্টার বলেন, ‘আমি ওই ক্লিনিকে অতিরিক্ত দায়িত্বে আছি। ডোবার পানিতে ওষুধ পাওয়ার বিষয়টি কিছুই জানি না।’
ধনতলা গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ওই কমিউনিটি ক্লিনিকে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা মিলত না, অধিকাংশ সময় সেটি বন্ধই পাওয়া যেত। খোলা থাকলেও রোগীদের প্রায়ই জানানো হতো ওষুধ নেই। অথচ এখন বিপুল পরিমাণ ওষুধ ডোবায় ফেলে রাখা অবস্থায় পাওয়া গেছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। তাঁদের ধারণা, মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ায় ওষুধগুলো এভাবে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এসব ওষুধ যথাসময়ে রোগীদের মধ্যে বিতরণ করা হলে চরাঞ্চলের অসংখ্য মানুষ উপকৃত হতেন এবং স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি অনেকটাই কমে আসত।
ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এ এ এম আবু তাহের বলেন, পানিতে ওষুধ ভাসতে থাকার বিষয়টি শুনেছেন। ইতিমধ্যে ওই ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন কর্মদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





