ঢাকা কলেজে অডিটোরিয়াম ব্যবহারে ১৫ দিন আগে অনুমতি ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সদস্য সংগ্রহের ডেস্ক বসাতে বাধা প্রদানে কলেজ প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, গত কিছু দিন থেকে কলেজের সামাজিক সংগঠনগুলোর সদস্য সংগ্রহের ডেস্ক বসাতে কলেজ প্রশাসন হতে বাধা প্রদান করা হয়।
সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের সহশিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত বিভিন্ন সংগঠনের কার্যক্রম সীমিত করার এই সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীদের সাংগঠনিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে। তাদের দাবি, সদস্য সংগ্রহ ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের জন্য ক্যাম্পাসে ডেস্ক পরিচালনার সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
ঢাকা কলেজ ডিবেট সোসাইটি সভাপতি আজিজুল ইসলাম পাভেল বলেন, ক্যাম্পাসে অনুমোদিত সংগঠনের পাশাপাশি আরও অনেক সংগঠন আছে। নবীন বরণকে কেন্দ্র করে একটা ঝামেলার পর কলেজ প্রশাসন সব ক্লাবের কার্যক্রম প্রায় বন্ধ করে দেয়। প্রশাসন বলেছিল, একটা নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়ার মধ্যে নিয়ে আসার পর আবার চালু করা হবে। এ নিয়ে বারবার প্রশাসনের সঙ্গে বসা হয়েছে। কিন্তু কখন চালু করা হবে এর কোনো স্পষ্ট কারণ বা সময়সীমা প্রশাসন বলেনি।ফলে ক্লাব চালাতে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ডেস্ক বন্ধ করে দেয়ায় বড় সমস্যা সদস্য সংগ্রহ। নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যাম্পাসে এসে ক্লাব খুঁজে পাওয়াই কষ্টকর হয়ে যায়। এছাড়া অডিটোরিয়াম বা কোনো ভেন্যু বরাদ্দ না পাওয়ায় প্রোগ্রাম করা যাচ্ছে না। ফলে প্রায় সব ক্লাবেরই কার্যক্রম কার্যত বন্ধ; কেউ কেউ কেবল নিয়মিত কাজটুকু করছে।
ঢাকা কলেজ হিস্ট্রি ক্লাবের সভাপতি ও ক্যারিয়ার ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আলী জানান, অডিটোরিয়াম ব্যবহারে ১৫ দিন আগে অনুমতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতার কারণে স্পট বুকিং বা হঠাৎ স্পন্সর এলেও প্রোগ্রাম করা যাচ্ছে না। প্রশাসনের দেওয়া তারিখও অনেক সময় যুক্তিসঙ্গত হয় না, ফলে স্পন্সরদের সঙ্গে সমস্যা তৈরি হয়।
তিনি বলেন, অন্য ক্যাম্পাসে প্রশাসন সহশিক্ষা ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে নানা সুবিধা দিলেও ঢাকা কলেজে তা দেওয়া হচ্ছে না, এতে সংগঠনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।ক্যাম্পাসে নতুন শিক্ষার্থীরা প্রবেশ করলে অন্তত এক মাস জমজমাট পরিবেশ থাকে। তখন বিভিন্ন সংগঠন তাদের ডেস্ক বসায়, যা দেখতে উৎসবমুখর লাগে। কিন্তু প্রশাসন এই উৎসবমুখর পরিবেশকে বাজারের সঙ্গে তুলনা করেছে। আমরা সব সংগঠনের পক্ষ থেকে এর তীব্র নিন্দা জানাই। প্রশাসনের কাছে আমরা নিশ্চয়তা চাই যাতে সব সামাজিক সংগঠন কাজ করতে পারে।গত মাসে সকল সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে স্মারক লিপি দেওয়া হলে আমাদের আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে তা বাস্তবায়ন হয়নি, আমরা দৃশ্যমান কিছু দেখিনি।
২৩-২৪ সেশনের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শান্ত ব্যাপারী বলেন,ক্যাম্পাসে সংঘঠনগুলোর ডেস্ক বসানোর মাধ্যমে নবীন শিক্ষার্থীরা তাদের পছন্দ অনুযায়ী সংঘঠনে বেছে নেয়ার সুযোগ পান, যা ক্যাম্পাসে একটি আনন্দময় ও উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে।সংঘঠনগুলোকে বাধা প্রদান করলে মুক্তবুদ্ধির চর্চা স্বাভাবিক ভাবে বাধাগ্রস্ত হবে। শিক্ষার্থী হিসেবে আমি চাইবো, ক্লাবগুলোর সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম যেন চলমান থাকে এবং সদস্য সংগ্রহে যেন তাদের উৎসাহ প্রদান করা হয়।
অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস বলেছেন, ক্যাম্পাসে ডেস্ক বসতে দেওয়া হচ্ছে না কারণ এলোমেলোভাবে বেঞ্চ নিয়ে বসে থাকে যা দেখতে ভালো দেখায় না।বসতে দেয়া হলে শুধু এক-দুজন নয়, অন্যরাও পাল্লা দিয়ে বসছে; তাই একটা নিয়মে বসতে হবে।যাদের রুম বরাদ্দ আছে, তারা নিজেদের রুমের সামনে বসবে। প্রয়োজনে প্রচার লাগে, আমরা নোটিশ দিব।আমাদের অবকাঠামোর সংকট তাই সবাইকে রুম দেওয়া সম্ভব না। যাদের রুম নেই, তাদের জন্যও নোটিশ দিয়ে সদস্য সংগ্রহের সময় নির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে।
অডিটোরিয়ামে বরাদ্দের বিষয়ে তিনি বলেন, আগে থেকে অনুমতি ও সময় নিয়ে প্রোগ্রাম করতে হবে। একই দিনে দুই গ্রুপের প্রোগ্রাম হলে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে দায় প্রশাসনের ওপর আসে।
তিনি আরো বলেন, সংগঠনের চর্চা সুস্থ ধারায় থাকা দরকার। নিয়মনীতি করলে কেউ বলতে পারে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে, কিন্তু নিয়ন্ত্রণ লাগবেই তবে তা যেন নেতিবাচক না হয়।






