ঢাকা | মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬,২১ আশ্বিন ১৪৩৩

রাবিতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলা, আহত ১০

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) রামদা, চাপাতি, হকিস্টিক, পাইপ ও বেসবল ব্যাটসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় চার সাংবাদিক গুরুতর আহতসহ অন্তত ১০ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন।

রোববার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়াউর রহমান হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত সাংবাদিকদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন—বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল এবং দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে জিয়াউর রহমান হলের সামনে আসেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় তাঁদের কয়েকজনের হাতে রামদা, চাপাতি, হকিস্টিক, পাইপ, বেসবল ব্যাটসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়। তাঁরা হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলামকে মারধরের উদ্দেশ্যে সেখানে এসেছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবুর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অস্ত্রগুলো লুকিয়ে ফেলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় অস্ত্র হাতে অবস্থানের ভিডিও ধারণ করতে দৈনিক সমকাল ও আজকের পত্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিরা এগিয়ে গেলে সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজুকে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। পরে আজকের পত্রিকার প্রতিনিধির মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

একপর্যায়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবানকেও মারধর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রক্টর সাংবাদিকদের হলের ভেতরে নিয়ে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন।

সাংবাদিকদের ওপর হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য সাংবাদিকরা উপস্থিত হলে দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল ও আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলামকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে জাহিদুল ইসলামের মাথা ফেটে যায়। এ ছাড়া আহত সাংবাদিকদের রক্ষা করতে এগিয়ে এলে অন্যান্য সাংবাদিকদেরও হুমকি দেওয়া হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠা ছাত্রদল নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছেন—বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, সহসভাপতি শরিফুল ইসলাম ও সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলম অথি। তাঁদের সঙ্গে আরও কয়েকজন নেতাকর্মী ছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমরা ব্যর্থ। আমাদের দ্বারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। আমরা পুলিশকে ফোন দিয়েছি, কিন্তু পুলিশও ভয়ে পালিয়ে গেছে।’

ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। হামলার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকরা।