ঢাকা | মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬,২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

পঞ্চগড়ে রাতের আঁধারে বিদ্যালয়ের ১১টি ফ্যান নিয়ে গেল চোর

পঞ্চগড়ের সদর উপজেলায় রাতের আধাঁরে বিদ্যালয়ের তালা ভেঙে ১১টি ফ্যান চুরির ঘটনা ঘটেছে। এসময় চোরেরা বিদ্যালয়ের একটি সাউন্ড সিস্টেম ও সততা স্টোরের কিছু টাকা নিয়ে গেছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) দিবাগত রাতে উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের বুড়িরবান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনাটি ঘটে।

তবে চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি স্ক্রুড্রাইভার রেখে গেছে চোরেরা। রোববার দুপুরে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষ অনেকটা এলোমেলো অবস্থায় দেখা গেছে। চুরির সময় বিদ্যালয়ের টেবিল ব্যবহার করায় তাতে জুতার স্পষ্ট ছাপ রয়েছে। তবে বিদ্যালয়ের কাঠের আলমারিতে রাখা ল্যাপটপ ও একটি প্রজেক্টরের সরঞ্জাম অক্ষত আছে বলে জানা গেছে।

তবে বিদ্যালয়ে এমন চুরির ঘটনায় স্তম্ভিত অভিভাবকসহ স্থানীয়রা। তবে বিদ্যালয়ের মূল কেচিগেট অক্ষত রেখেই চোরেরা বিদ্যালয়ের বারান্দার গ্রিল ব্যবহার করে দোতলায় উঠেছে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানান, সকালে তারা বিদ্যালয়ে নিজ নিজ কক্ষে প্রবেশ করে ফ্যানের সুইচ দিতেই দেখে ফ্যান ঘোরে না। পরে উপরে তাকাতেই দেখে রুমে কোনো ফ্যান নেই। দিনের বেলা প্রচণ্ড গরমে ক্লাস করতে প্রচুর কষ্ট হচ্ছে বলেও অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

রমেন চন্দ্র রায় নামে বিদ্যালয়ের এক ছাত্রের বাবা বলেন, ‘সকালে ছেলেকে বিদ্যালয়ে দিতে এসে শুনি ফ্যান নাকি ১১টি চুরি হয়েছে। আসলে বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। আমরা এর সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

বুড়িরবান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হারুন অর রশীদ বলেন, ‘আমরা প্রতিদিনের মত আজকেও সকালে এসে বিদ্যালয়ের তালা খুলি। পরে অফিস রুম এলোমেলো দেখতে পাই। টেবিলে জুতার ছাপ দেখি। উপরে তাকাতেই দেখি চারটি ফ্যান নেই। পরে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণীর রুমেও গিয়ে দেখি আরো ৭টি ফ্যান নেই। রাতের বেলা কে বা কাহারা বিদ্যালয়ের তালা ভেঙে ফ্যানগুলো নিয়ে গেছে। তবে তারা বিদ্যালয়ের একটি সাউন্ড সিস্টেম ও সততা স্টোরে রাখা কিছু টাকা নিয়ে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরাতো ছুঁটির পরে চলে যাই কিন্তু শুনতেছি স্থানীয়দের কাছে কিছুদিন ধরে সন্ধ্যার পরে লোকজন নাকি এখানে আড্ডা দিচ্ছে। মাদক সেবন করছে। হয়তো তারাই এসব করছে। আমরা এখনো কোনো অভিযোগ দেইনি থানায়। তবে আমাদের সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়েছি বিষয়টি।’

সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আশীষ কুমার শীল বলেন, ‘বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করলে আমরা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’