ঢাকা | মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,৩১ ভাদ্র ১৪৩৩

ডাকসুতে জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: ঢাবি কর্তৃপক্ষ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও তৎকালীন ছাত্রসংঘের নেতা আব্দুল মালেকের ছবি প্রদর্শনের ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের উপপরিচালক ফররুখ মাহমুদের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহ ও আব্দুল মালেকের ছবি প্রদর্শনের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে এসেছে। ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ব্যক্তিদের ছবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালায় প্রদর্শন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধিবিধান অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে সোমবার দুপুরে আবু তৈয়ব হাবিলদার নামে এক শিক্ষার্থী পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবিটি ছিঁড়ে ফেলেন।

অন্যদিকে, ডাকসুর উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মূল্যায়নের বিষয়টিকেও আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক বিধিবিধানের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেছে ঢাবি কর্তৃপক্ষ।

প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মূল্যায়নের জন্য ডাকসুর পক্ষ থেকে অনুমোদন ছাড়াই একটি ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। শিক্ষক মূল্যায়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিষয় হওয়ায় কোনো ব্যক্তি, সংগঠন কিংবা ছাত্র সংসদ নিজেদের উদ্যোগে পৃথক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করতে পারে না।

এ ছাড়া ওয়েবসাইটটির মাধ্যমে শিক্ষকদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, যা আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলেও জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আরো জানিয়েছে, শিক্ষকদের টিচিং ইভালুয়েশনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নীতিমালা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অনুমোদিত ওই নীতিমালা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

তাই অনুমোদিত নীতিমালার বাইরে গিয়ে পৃথক কোনো শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিয়েছে প্রশাসন। তাদের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার শামিল। ডাকসুর এ ধরনের উদ্যোগকে অনাকাঙ্ক্ষিত, অপ্রত্যাশিত ও অগ্রহণযোগ্য বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ধরনের দ্বৈত প্রশাসনিক কাঠামো প্রতিষ্ঠার সুযোগ নেই। ডাকসু গুরুত্বপূর্ণ ছাত্রপ্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠান হলেও এর সব কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন, বিধি, নীতিমালা ও প্রশাসনিক কাঠামোর আওতায় পরিচালিত হতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্তৃত্ব এড়িয়ে কোনো সমান্তরাল কাঠামো বা প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা এবং বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের মর্যাদা রক্ষার ক্ষেত্রে কোনো আপস করা হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন ছাড়া কোনো স্থাপনা নির্মাণ কিংবা পৃথক প্রশাসনিক ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা