রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) আর্থিক অসংগতির বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সংগঠনটি। তহবিল থেকে সোয়া কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়নি বলে দাবি করেন রাকসু নেতারা। চলতি মেয়াদে রাকসু এক কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। এর মধ্যে ৯৩ লাখ টাকা বিভিন্ন কর্মসূচিতে ব্যয়ের অনুমোদন পায় এবং ৬৩ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে বলে দাবি রাকসু নেতাদের। তবে ভাউচার কোষাধ্যক্ষের ভুলকে দায়ী করে সংগঠনটি।
আজ রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে কোষাধ্যক্ষ কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে রাকসুর মুখপাত্র হিসেবে লিখিত বক্তব্য পড়েন বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক ইমরান লস্কর। তিনি বলেন, রাকসুর বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে অর্থ উত্তোলন, ব্যয় ও হিসাবনিকাশ-সংক্রান্ত যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, তা আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে। প্রকাশিত সংবাদগুলোতে তথ্যের ঘাটতি রয়েছে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ন্যারেটিভ নির্মাণের চেষ্টা পরিলক্ষিত হয়েছে।
ছাত্র সংগঠনের প্রতিক্রিয়ার নিন্দা জানিয়ে রাকসু এ নেতা বলেন, সংবাদকে ভিত্তি করে কয়েকটি ছাত্র সংগঠন ও কতিপয় ব্যক্তি রাকসুর আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনার নামে কটূক্তি ও মানহানিকর বক্তব্য দিচ্ছে। তথ্য যাচাই ছাড়া পরিচালিত এই অপপ্রচারমূলক তৎপরতার আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
চলতি মেয়াদের রাকসুর বরাদ্দের বিষয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘ ৩৫ বছরের হিসাব চাওয়া হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাত্র ২০১২ সাল পর্যন্ত হিসাব উপস্থাপন করা সম্ভব হয়। পরে রাকসুর তৎকালীন সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের উদ্যোগে ২০০৫ সাল পর্যন্ত প্রাপ্ত হিসাব পর্যালোচনা করে প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ টাকার হিসাব পাওয়া যায়। এর মধ্যে প্রায় ২ কোটি টাকা এফডিআর এবং অবশিষ্ট প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা শিক্ষার্থীকল্যাণমূলক কার্যক্রমে ব্যয়ের বিষয়ে রাকসুর অধিবেশনে এজেন্ডা গৃহীত হয়।
বরাদ্দ ও খরচের বিবরণী উপস্থাপন করে সংবাদ সম্মেলনে ইমরান লস্কর দাবি করেন, ভিপি, জিএস, এজিএসসহ অন্যান্য সম্পাদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মোট বরাদ্দ অনুমোদন হয়েছে ৯১ লাখ ৫৫ হাজার ৯৩৯ টাকা। এর মধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ৩ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। রাকসু তহবিল থেকে ৮৭ লাখ ৬০ হাজার ৯৩৯ টাকা। এর মধ্যে উত্তোলন করা হয়েছে ৬৩ লাখ ৮৯ হাজার ৭৫৩ টাকা। উত্তোলন বাকি রয়েছে ২৩ লাখ ৭১ হাজার ১৮০ টাকা।
ভাউচার অসংগতির বিষয়ে কোষাধ্যক্ষের ভুল ছিল এবং সাংবাদিকের কাছে অপূর্ণাঙ্গ তথ্য ছিল উল্লেখ করে বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক ইমরান লস্কর বলেন, ‘আমাদের কিছু কর্মসূচি দীর্ঘমেয়াদি চলে। এভাবে পুরো মাসের কর্মসূচিকে একত্র করে ভাউচার সমন্বয় করি। এখানে কোষাধ্যক্ষ স্যারও ভুল করেছেন। একটা বিষয় হচ্ছে সংবাদ মাধ্যম অসত্য তথ্য প্রকাশ করতে পারে। আরও কিছু কারণ থাকতে পারে। তাদের কাছে আপডেট তথ্য নাও থাকতে পারে। আমাদের কার্যকাল শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী অডিট হবে। সেখানে কোনো অসংগতি পাওয়া গেলে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।’
সংবাদ সম্মেলনে রাকসু ভিপির সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়া প্রসঙ্গে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে ইমরান লস্কর বলেন, ভিপি সেদিন সংবাদ সম্মেলনে একটি বক্তব্য দিয়েছিলেন। এই বক্তব্যের বিষয়ে আমরা রাকসু বডির পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করছি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন রাকসুর এজিএস এস এম সালমান সাব্বির, শিক্ষা ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক বি এম নাজমুস সাকিব, মহিলাবিষয়ক সম্পাদক সায়িদা হাফসা প্রমুখ।





