ঢাকা | সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬,২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রাথমিকে যুক্ত হচ্ছে ‘সায়েন্স টয়’: ববি হাজ্জাজ

খেলতে খেলতে শিশুদের বিজ্ঞান শেখাতে প্রাথমিকের শিক্ষাক্রমে সায়েন্স টয়’ যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক ও সৃজনশীল করে গড়ে তুলতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “আমরা চাই শিশুরা শুধু বই পড়ে বিজ্ঞান শিখবে না, বরং হাতে-কলমে কাজ করে, খেলতে খেলতেই বিজ্ঞান শিখবে। এ লক্ষ্যেই প্রাথমিকের কারিকুলামে সায়েন্স টয় যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।”

রাজধানীর বনানীতে হোটেল শেরাটনে ইউনিসেফ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রোববার প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেছেন বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

‘ফাউন্ডেশনাল লার্নিং অ্যাকশন ট্র্যাকার’ শীর্ষক ওই অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় বিজ্ঞান, গণিত, ডিজাইন ও সৃজনশীলতার ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

শিশুদের শেখার প্রক্রিয়াকে আনন্দময় ও বাস্তবভিত্তিক করতে কারিকুলামের ভেতরে ‘সায়েন্স টয়’ ও হাতে-কলমে শেখার বিভিন্ন উপকরণ যুক্ত করা হবে।

“পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘ম্যাথ ল্যাব’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যেখানে বিভিন্ন উপকরণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আকার, আকৃতি, গুণ, ভাগ, যোগ-বিয়োগসহ গণিতের মৌলিক ধারণা শিখবে।”

প্রতিমন্ত্রী ফাউন্ডেশনাল লার্নিংয়ের ঘাটতি দূর করার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “প্রাথমিক শিক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যগুলোর একটি হল প্রতিটি শিশুর মৌলিক পড়া, লেখা ও গণিতের দক্ষতা নিশ্চিত করা। কোনো শিক্ষার্থী উচ্চতর শ্রেণিতে উঠলেও তার ভিত্তিগত শেখার ঘাটতি থাকলে পরবর্তী শিক্ষাজীবনে তা বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করে।”

বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা শিশুদের শিক্ষার আওতায় আনতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে বলেও তুলে ধরেন গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী।

শিশুদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখতে বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্মসহ বিভিন্ন সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগের কথাও বলেন।

তিনি জানিয়েছেন, আগামী ১৬ আগস্ট প্রথমবারের মত বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে।

মিড-ডে মিল কর্মসূচি প্রসঙ্গে ববি হাজ্জাজ বলেন, “পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় যেসব ত্রুটি ও সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত হয়েছে, সেগুলো সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

“একটি পাইলট প্রকল্পের সফলতা শুধু কতজনের কাছে পৌঁছেছে তা দিয়ে নয়, বরং বাস্তবায়নের সময় কী কী সমস্যা চিহ্নিত হয়েছে এবং সেগুলোর কতটা কার্যকরভাবে সমাধান করা গেছে তার ভিত্তিতেও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।”

প্রাথমিক শিক্ষার বিভিন্ন প্রকল্পকে শুধু দর্শননির্ভর নয়, বরং অপারেশনাল ও বাস্তবভিত্তিক হতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “সরকারের দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষাদর্শন থাকবে, তবে সেই দর্শন বাস্তবায়নের জন্য প্রতিটি প্রকল্পের সুস্পষ্ট কার্যক্রম, বাস্তবায়ন কাঠামো, পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন ব্যবস্থা থাকতে হবে।

“আমাদের দর্শন হলো দেশের প্রতিটি ঘরে, প্রতিটি শিশুর কাছে সঠিক শিক্ষা পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু প্রকল্প যখন মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন হবে, তখন সেটি হতে হবে সম্পূর্ণ অপারেশনাল। ধাপে ধাপে কীভাবে কাজটি করা হচ্ছে, কীভাবে মনিটরিং হচ্ছে, এসব বিষয়ে আমরা আরও শক্তিশালী ব্যবস্থা তৈরি করছি।”

অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব জেসমিন নাহার, ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ারস, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসীসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।