২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে চোখে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুজন মোল্লা। দীর্ঘ চিকিৎসা ও শারীরিক দুর্ভোগের মধ্যেও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে পুরোপুরি দূরে সরে যাননি তিনি। আর সেই কারণেই বর্তমানে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটি গঠনের আলোচনায় তার নাম গুরুত্বের সঙ্গে উচ্চারিত হচ্ছে বলে দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।
ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা সুজন মোল্লার রাজনৈতিক পথচলা দীর্ঘদিনের। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে ক্যাম্পাস রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার পর ধীরে ধীরে তিনি সংগঠনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ২০২২ সালের ৩০ জুলাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর তার সাংগঠনিক ভূমিকা আরও বিস্তৃত হয়।
এদিকে বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, খুব শিগগিরই ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সেই ধারাবাহিকতায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটিও ঘোষণা করা হতে পারে। সম্ভাব্য কমিটি নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত ও সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় নেতাদের মূল্যায়ন করা হতে পারে। সেই তালিকায় আলোচিত নামগুলোর মধ্যে রয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুজন মোল্লা।
দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলন, অবরোধ, হরতাল ও কর্মসূচিতে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন সুজন মোল্লা। বিশেষ করে পুরান ঢাকা ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এলাকায় সংগঠনকে সক্রিয় রাখতে তার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।
জুলাই আন্দোলনের সময়ও মাঠপর্যায়ে নেতাকর্মীদের সংগঠিত রাখতে কাজ করেন তিনি। আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে আহত কর্মীদের চিকিৎসা, গ্রেপ্তার হওয়া নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নেওয়া এবং সাংগঠনিক সমন্বয় বজায় রাখার ক্ষেত্রে তার ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন সহকর্মীরা।
দলীয় সূত্র জানায়, ১৯ জুলাই রাজধানীতে একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। চোখে গুরুতর আঘাত নিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে একাধিক অস্ত্রোপচার করতে হয় এবং তার বাম চোখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তার উন্নত চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার চোখে একাধিক অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। চিকিৎসা এখনও চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও কয়েকটি ধাপ সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটি গঠন নিয়ে দলীয় অঙ্গনে আলোচনা জোরদার হয়েছে। সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় সুজন মোল্লার নামও আলোচনায় রয়েছে বলে একাধিক নেতাকর্মী জানিয়েছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং ব্যক্তিগত ত্যাগ তাকে নেতৃত্বের জন্য শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
তবে নতুন কমিটিতে কারা দায়িত্ব পাবেন, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। ফলে শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কাদের ওপর আস্থা রাখে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।







