ঢাকা | শনিবার, ২ মে ২০২৬,১৯ বৈশাখ ১৪৩৩

যেভাবে বৃষ্টির মরদেহ শনাক্ত করল পুলিশ

গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি /সংগৃহীত
গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি /সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে নিখোঁজ হওয়ার দুই সপ্তাহ পর বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ শনাক্তের খবর জানিয়েছে দেশটির পুলিশ।

শুক্রবার (১ মে) তার মরদেহ শনাক্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ওয়াশিংটনে অবস্থিত বাংলাদেশি দূতাবাস। মিয়ামিতে বাংলাদেশ কনস্যুলেট-এর মাধ্যমে বৃষ্টির মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও জানিয়েছে তারা।

এর আগে, গত ৩০ এপ্রিল করে ফ্লোরিডা পুলিশ। সেখানে বৃষ্টির মরদেহ শনাক্তের খবর নিশ্চিত করে তারা।

যেভাবে পাওয়া গেল বৃষ্টির মরদেহ


গত ১৬ এপ্রিল ফ্লোরিডার টাম্পা বে এলাকা থেকে নিখোঁজ হন ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি।

নিখোঁজের প্রায় ১০ দিন পর লিমনের মরদেহটির সন্ধান পাওয়া যায়। তার মরদেহ যেদিন পাওয়া যায় সেদিনই রুমমেট হিশাম আবুঘরবেহকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কিন্তু তখনও খোঁজ মিলছিল না বৃষ্টির। যদিও পুলিশ আগেই বৃষ্টির পরিবারকে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল। আবুঘরবেহ’র গাড়ির ভেতর বৃষ্টির রক্তের দাগ পাওয়া যায় বলেও জানিয়েছিল পুলিশ।

এরপর গত ২৪ এপ্রিল লিমনের মরদেহের সন্ধান মেলে। হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড নামে একটি ব্রিজে আবর্জনা ফেলার কালো ব্যাগে এমনভাবে তার মরদেহটি ফেলে রাখা হয়েছিল, যেটা দেখে মনে হবে সাধারণ কোনো আবর্জনা। এ ঘটনার দুইদিন পরই ওই ব্রিজের কাছাকাছি একটি এলাকায় আরও একটি কালো রঙের পলিথিন দেখতে পান মৎস্যশিকারীরা। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হলে, পুলিশ খণ্ডিত মরদেহ দেখতে পায়। যদিও খণ্ডিত অংশগুলো নারীর না পুরুষের তাও বোঝার উপায় ছিল না।

তবে খণ্ডিত অংশে থাকা কাপড়ের টুকরোর সঙ্গে বৃষ্টিকে শেষ যেদিন দেখা গিয়েছিল (সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী), তার কাপড় মিলে গিয়েছিল।

অবশেষে ৩০ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলনে এসে হিসলবরো কাউন্টি শেরিফ নিশ্চিত করেন, চারদিন আগে পাওয়া মরদেহটি বৃষ্টির। শেরিফ ক্রোনিস্টার জানান, বৃষ্টির মরদেহের অবস্থার কারণে তাকে নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করতে পুলিশকে ডেন্টাল রেকর্ড ও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে।