ঢাকা | শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬,১৪ কার্তিক ১৪৩৩

আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের অবক্ষয়: সামাজিক নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার জন্য এক অশনিসংকেত

ইদানীং আমাদের সমাজের একটি বিষয় অত্যন্ত বিশেষভাবে লক্ষণীয় হয়ে উঠেছে। সেটি হলো, মানুষের মধ্যে আইন অমান্য করার প্রবণতা ক্রমেই দৃশ্যমান হচ্ছে। আরও স্পষ্ট করে বললে, আইন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতি একধরনের অশ্রদ্ধা, অসহিষ্ণুতা এবং অবজ্ঞার মনোভাব তৈরি হচ্ছে। অথচ কিছুদিন আগেও সাধারণ মানুষের মধ্যে এমন প্রবণতা এতটা প্রকাশ্যভাবে লক্ষ করা যেত না। আমার মনে হয়, একটি বিষয় অনেকেই স্বীকার করবেন যে, ২০২৪ সালের গণ-আন্দোলনের পর আমাদের সমাজের মানুষের আচার-আচরণ, চিন্তাভাবনা, কথাবার্তা ও পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে মানুষের একটি অংশের মধ্যে আগ্রাসী মনোভাব, অসহিষ্ণু আচরণ এবং আইনকে নিজের মতো করে ব্যাখ্যা করার প্রবণতা বেড়েছে বলে মনে হচ্ছে। অনেকের আচরণ দেখে মনে হয়, আইন অমান্য করলেও তেমন কোনো পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে না। অর্থাৎ, আইন ভাঙার ক্ষেত্রে একধরনের দায়মুক্তির মানসিকতা তৈরি হচ্ছে, যা একটি সভ্য ও সুশৃঙ্খল সমাজের জন্য মোটেও ইতিবাচক নয়।

ট্রাফিক আইন অমান্য ও আইন প্রয়োগে প্রতিবন্ধকতা

বর্তমান সময়ে সড়কে চলাচল করতে গিয়ে এ প্রবণতার বাস্তব চিত্র বেশ স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে। অটোরিকশাচালক থেকে শুরু করে বাস, ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহনের চালকদের অনেকের মধ্যেই ট্রাফিক আইন মানার অনীহা লক্ষ করা যাচ্ছে। অনেকেই নির্ধারিত নিয়ম অমান্য করছেন, যেখানে-সেখানে যানবাহন দাঁড় করাচ্ছেন, অবৈধভাবে রাস্তা দখল করছেন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই যানবাহন চালাচ্ছেন। কিন্তু আইন অমান্য করার পর যখন ট্রাফিক পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে, তখন অনেকেই নিজেদের ভুল স্বীকার না করে উল্টো পুলিশের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়ছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ক্ষমতার দাপট দেখানো, প্রভাবশালী ব্যক্তির পরিচয় দেওয়া কিংবা ফোনে তথাকথিত বড় ভাইকে ধরিয়ে দিয়ে পুলিশকে চাপ প্রয়োগের ঘটনাও সামনে আসছে।

এখানে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, আইন প্রয়োগ করতে গিয়ে অনেক সময় পুলিশ সদস্যদের মধ্যেও একধরনের অস্বস্তি, অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতা কাজ করছে বলে প্রতীয়মান হয়। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাঁরা অযাচিত চাপ, হুমকি কিংবা অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন। ফলে অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ সদস্যদের অসহায় অবস্থায় পড়তে দেখা যায়।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরাই যদি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিজেদের নিরাপদ মনে না করেন, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে কীভাবে? একজন নাগরিক হিসেবে আমরা রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমাই, নিরাপদে রাস্তায় চলাচল করি, নিজেদের পরিবার-পরিজন নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করি। এই সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পুলিশের দায়িত্ব ও ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অপরাধ দমন, জননিরাপত্তা রক্ষা, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নাগরিকদের জানমালের সুরক্ষায় পুলিশ একটি অপরিহার্য প্রতিষ্ঠান।

তাই নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে, পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার স্বার্থে এবং সর্বোপরি আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ সমাজ গড়ে তুলতে পুলিশকে যথাযথ দায়িত্ব পালনের পরিবেশ দিতে হবে। আইন প্রয়োগ করতে গিয়ে পুলিশ যেন কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা প্রভাবশালী মহলের অযৌক্তিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করতে বাধ্য না হয়, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে দুর্বলতা তৈরি হলে অপরাধপ্রবণ ব্যক্তিরা উৎসাহিত হবে এবং ধীরে ধীরে সমাজে বিশৃঙ্খলা বাড়তে থাকবে।

পুলিশের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে, তবে আইন প্রয়োগের সক্ষমতাও অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে

অবশ্যই পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। কোনো পুলিশ সদস্য অপরাধে জড়িয়ে পড়লে কিংবা দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ক্ষমতার অপব্যবহার করলে তার যথাযথ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা থাকতে হবে। রাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠানই জবাবদিহির ঊর্ধ্বে হতে পারে না। বরং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ক্ষেত্রে পেশাগত সততা, দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

এ ক্ষেত্রে সরকারের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশ সদস্যদের জন্য যেমন নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, তেমনি তাঁদের কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে হবে। কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটন করতে হবে। অপরাধ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। চাকরি হারানোর আশঙ্কা, আইনি শাস্তি এবং সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার ভয় একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে অন্যায় ও অনিয়ম থেকে বিরত রাখতে সহায়ক হতে পারে।

তবে একটি বিষয় কোনোভাবেই ভুলে গেলে চলবে না—পুলিশের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং পুলিশকে দুর্বল করে দেওয়া এক বিষয় নয়। বরং একটি আধুনিক, গণতান্ত্রিক ও নিরাপদ রাষ্ট্রে পুলিশকে হতে হবে একই সঙ্গে দায়িত্বশীল, পেশাদার, জবাবদিহিমূলক এবং আইন প্রয়োগে সক্ষম। কোনো অবস্থাতেই পুলিশ বা প্রশাসনকে এমন পরিস্থিতিতে ঠেলে দেওয়া উচিত নয়, যেখানে তারা আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে অযৌক্তিক বাধা ও চাপের মুখে পড়ে দায়িত্ব পালনে নিরুৎসাহিত হয়।

মোবাইল কোর্ট ও প্রশাসনিক অভিযানে বাধা: আইনের শাসনের জন্য উদ্বেগজনক প্রবণতা

ইদানীং আরও একটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষণীয় হয়ে উঠেছে। সেটি হলো, মোবাইল কোর্ট পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়া, তাঁদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা এবং অনেক ক্ষেত্রে সরকারি দায়িত্ব পালনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা।

সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্নে চলাচলের পথ সুগম করতে যখন রাস্তা ও ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত করার অভিযান পরিচালনা করা হয়, তখন একশ্রেণির মানুষ সেই অভিযানের বিরোধিতা করেন। কোথাও কোথাও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটদের ঘিরে ধরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। এমনকি সংঘবদ্ধভাবে বাধা সৃষ্টি করে মব তৈরির চেষ্টাও লক্ষ করা যায়।

অথচ রাস্তা ও ফুটপাত কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এগুলো সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত জনপরিসর। একজন পথচারী, শিক্ষার্থী, বয়স্ক ব্যক্তি কিংবা প্রতিবন্ধী নাগরিকের নির্বিঘ্নে চলাচলের অধিকার রয়েছে। সেই অধিকার নিশ্চিত করতে প্রশাসন যখন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে, তখন সেখানে বাধা সৃষ্টি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

একইভাবে অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধ কিংবা সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ ও পর্যবেক্ষণ সামনে আসছে। এভাবে যদি প্রতিটি আইনানুগ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ বাধা সৃষ্টি করা হয়, তাহলে রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করাই কঠিন হয়ে পড়বে।

আইন না মানার সংস্কৃতি একটি রাষ্ট্রকে কোথায় নিয়ে যেতে পারে?

একটি রাষ্ট্র কেবল তার ভৌগোলিক সীমানা, অবকাঠামো কিংবা অর্থনৈতিক উন্নয়নের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে না। একটি রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি নির্ভর করে তার আইন, প্রতিষ্ঠান, প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং নাগরিকদের দায়িত্বশীল আচরণের ওপর। রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিক যদি নিজের ইচ্ছামতো আইন মানা বা না মানার সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করেন, তাহলে সেখানে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা কঠিন হয়ে পড়ে।

আজ যদি একজন যানবাহনচালক ট্রাফিক আইন অমান্য করে পার পেয়ে যান, কাল অন্য কেউ আরও বড় ধরনের আইন লঙ্ঘনে উৎসাহিত হবেন। আজ যদি কোনো ব্যক্তি সরকারি দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত কর্মকর্তাকে প্রভাব খাটিয়ে ভয় দেখাতে সক্ষম হন, কাল অন্য কেউ একই পদ্ধতি অনুসরণ করবেন। এভাবে ধীরে ধীরে আইন অমান্য করার প্রবণতা সামাজিকভাবে স্বাভাবিক আচরণে পরিণত হতে পারে।

এর সুদূরপ্রসারী পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হতে পারে। অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধি, সামাজিক বিশৃঙ্খলা, জননিরাপত্তার অবনতি, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি একটি রাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তিকে দুর্বল করে দিতে পারে। শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যেতে পারে।

আমরা নিশ্চয়ই এমন একটি সমাজ চাই না, যেখানে যার শক্তি বেশি সে-ই আইন তৈরি করবে, যার প্রভাব বেশি সে-ই নিয়ম ভাঙার সুযোগ পাবে, আর সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত হবে। একটি সভ্য রাষ্ট্রে ক্ষমতা কিংবা পরিচয় নয়, বরং আইনের মর্যাদাই হবে সবার ওপরে।

নাগরিকবান্ধব পুলিশ ও দায়িত্বশীল নাগরিক—দুটিই সমান গুরুত্বপূর্ণ

এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব শুধু পুলিশের একার নয়; একইভাবে সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্বও শুধু প্রশাসনের ওপর ছেড়ে দিয়ে নাগরিকদের দায়মুক্ত থাকার সুযোগ নেই। রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে।

পুলিশকে যেমন আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ, পেশাদার ও দায়িত্বশীল হতে হবে, তেমনি সাধারণ মানুষকেও আইন মেনে চলার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। পুলিশকে জনগণের বন্ধু হতে হবে, নাগরিকদের সঙ্গে সম্মানজনক ও মানবিক আচরণ করতে হবে। কোনো নাগরিক যেন অযথা হয়রানি, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা অন্যায় আচরণের শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

অন্যদিকে সাধারণ মানুষকেও বুঝতে হবে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে অসহযোগিতা করা, দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া কিংবা প্রভাব খাটিয়ে আইন অমান্য করার চেষ্টা করা কোনো নাগরিক অধিকার নয়। নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকার পাশাপাশি অন্যের অধিকার এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বৈধ দায়িত্বের প্রতিও শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।

কোনো আইন বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে দ্বিমত থাকলে তার প্রতিবাদ করার আইনসম্মত পথ রয়েছে। অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা রয়েছে, আইনি প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কিংবা সংঘবদ্ধভাবে সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করা কখনোই সমস্যার সমাধান হতে পারে না।

প্রকৃতপক্ষে পুলিশ ও সাধারণ মানুষ একে অপরের প্রতিপক্ষ নয়; বরং একটি নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল সমাজ গঠনে তারা পরস্পরের পরিপূরক। এক পক্ষের সহযোগিতা ছাড়া অন্য পক্ষের পক্ষে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব নয়।

আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল বাংলাদেশ গড়তে হবে

আমাদের মনে রাখতে হবে, দেশটি শুধু কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষের নয়। এই দেশ আমাদের সবার। এখানে আমাদের সন্তানরা বেড়ে উঠবে, আগামী প্রজন্ম তাদের ভবিষ্যৎ নির্মাণ করবে। আমরা নিশ্চয়ই তাদের জন্য এমন একটি বাংলাদেশ রেখে যেতে চাই, যেখানে মানুষ আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে, অন্যের অধিকারকে সম্মান করবে, প্রশাসন দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপত্তার সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারবে।

তাই এখনই সময় আমাদের নিজেদের আচরণ, চিন্তাভাবনা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন করে ভাবার। গণতান্ত্রিক অধিকার ভোগ করার অর্থ এই নয় যে, আমরা রাষ্ট্রের আইন ও নিয়মকানুন অমান্য করব। বরং প্রকৃত নাগরিক সচেতনতার পরিচয় হলো—নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকার পাশাপাশি নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করা।

আমরা যদি সত্যিকার অর্থে একটি সুন্দর, নিরাপদ ও উন্নত বাংলাদেশ দেখতে চাই, তাহলে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ফিরিয়ে আনতে হবে। পুলিশ ও প্রশাসনকে দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত পরিবেশ দিতে হবে। একই সঙ্গে তাদের প্রতিটি কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। সাধারণ মানুষকে হতে হবে আইন মেনে চলার ক্ষেত্রে সচেতন ও দায়িত্বশীল।

মনে রাখতে হবে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ছাড়া টেকসই শান্তি, সামাজিক নিরাপত্তা কিংবা রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই আসুন, আমরা কেউ কারও প্রতিপক্ষ না হয়ে রাষ্ট্র ও সমাজের বৃহত্তর স্বার্থে একে অপরের সহযোগী হই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তুলি।

কারণ একটি রাষ্ট্র তখনই প্রকৃত অর্থে শক্তিশালী হয়ে ওঠে, যখন সেই রাষ্ট্রের নাগরিকরা আইনকে ভয় নয়, বরং ন্যায়বিচার ও সুরক্ষার ভিত্তি হিসেবে শ্রদ্ধা করতে শেখে।

আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, দায়িত্বশীল আচরণ এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের মধ্য দিয়েই গড়ে উঠতে পারে একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ। আমাদের আগামী প্রজন্মের জন্য এমন একটি রাষ্ট্র রেখে যাওয়াই হোক আমাদের সবার অঙ্গীকার।

লেখক: মো. কাওছার আলম চৌধুরী
কবি, লেখক ও স্বাধীন সাংবাদিক।