৪৯তম বিশেষ বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পেয়েও গেজেট থেকে বাদ পড়ার পর গোপালগঞ্জের হওয়াকে কারণ মনে করেছিলেন বুশরা জাহান ঐশী। তবে দ্বিতীয় দফায় গেজেট প্রকাশের পর সেই ‘ধারণা ভুল’ ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।
বুশরা বলেন, গোপালগঞ্জের বাদ পড়া ৯ জনই শেষ পর্যন্ত গেজেটভুক্ত হয়েছেন। তাই এলাকাভিত্তিক কোনো বৈষম্য হয়নি বলেও মনে করেন তিনি।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন বুশরা জাহান ঐশী।
সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী স্যার—এই তিনজনকে আমি আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ দিতে চাই। কারণ, আমার জানামতে উনাদের হস্তক্ষেপের কারণেই কোনো রকম লালফিতার দৌরাত্ম্য ছাড়াই খুবই দ্রুত সময়ের মধ্যে আমাদের গেজেট হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এমনকি গেজেটবঞ্চিত হওয়ার পর ২৪ ঘণ্টাও আমাকে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়নি। কারণ, আমি গেজেটবঞ্চিত হয়েছি যেদিন সন্ধ্যায়, তার পরদিন দুপুরেই মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্যারের বক্তব্য টিভিতে দেখে আমি জানতে পেরেছি যে আমাদের সোমবার গেজেট দেওয়া হবে।’
গেজেট থেকে বাদ পড়ার কারণ সম্পর্কে নিজের আগের ধারণার কথা তুলে ধরে বুশরা বলেন, ‘আমার ধারণা ছিল, কোনো একটা ভুল বোঝাবুঝি, তথ্যগত বিভ্রান্তি বা কিছুর কারণে আমি বাদ পড়েছি। যদি সরকারের ওপর মহল এটা ভালো করে আবার পর্যবেক্ষণ করে দেখে, তাহলে অবশ্যই আমি গেজেটভুক্ত হবো। সরকারের কাছে এজন্যই আমার কৃতজ্ঞতা যে আমার দুইটা মাস, কেন দুইটা দিনও অপেক্ষা করতে হয়নি। আমার ভাই-বোন, তাদের সবার সঙ্গে আমিও একই দিনে ১২ তারিখেই পদায়ন পাবো।’
নিজের গেজেট থেকে বাদ পড়ার কারণ হিসেবে গোপালগঞ্জের বিষয়টি মনে হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার নিজের দৃষ্টিকোণ থেকে আমার কোনো ভুল ছিল না। আমার গেজেট থেকে বাদ পড়ার কোনো কারণ ছিল না। তো তখন স্বাভাবিকভাবেই আসলে যখন আমরা বিধ্বস্ত হয়ে যাই, আমাদের মস্তিষ্ক কোনো না কোনো একটা দোষ খুঁজে বের করে। আমি আসলে অনুযোগ করব, অভিযোগ করব—একটা কারণ খুঁজে বের করলাম। তখন আমার মস্তিষ্কে মনে হলো যে হয়তো আমার বাসা গোপালগঞ্জে, সেজন্য আমি বাদ পড়েছি। এটা আমার জাস্ট একটা ধারণা ছিল এবং আমি আসলে কাঁদতে কাঁদতে এটাই বলেছিলাম।’
তবে সেই ধারণা এখন পুরোপুরি বদলে গেছে জানিয়ে বুশরা বলেন, ‘কিন্তু আমার ভুল ধারণা সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে। কারণ, আমরা গোপালগঞ্জ থেকে যে গেজেটবঞ্চিত ৯ জন ছিলাম, আমরা নয়জনই গেজেটভুক্ত হয়েছি।’
এজন্য গোপালগঞ্জের বাকি ৮ জনের পক্ষ থেকেও সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা যে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ, এর প্রমাণ আসলে আমরা পেয়েছি যে এলাকাভিত্তিক কোনো বৈষম্য নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি এলাকার অনুযোগ করেছি, তবে আমার মনে হয় যে আমি কোনো একটা ভুল বোঝাবুঝির শিকার বা আমরা সকলেই ভুল বোঝাবুঝির শিকার ছিলাম এবং সেটা এখন ঠিক হয়ে গেছে। এজন্য আমি সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।’
‘আমার কথা কেউ বলতে পারবে না যে আমি কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে আমি চাকরিটা পেয়েছি। তো সেক্ষেত্রে সরকার নিরপেক্ষভাবে আমাকে গেজেট দিয়েছে,’ যোগ করেন বুশরা।
তিনি বলেন, ‘আমার পরিচিত যে বাকি আটজন ভাই, ওনারাও কোনো রাজনীতি করেন না। গোপালগঞ্জের চারজন ভাইসহ আমাদের নয়জনকে সরকার নিরপেক্ষভাবে গেজেট দিয়েছে, আমাদের মেধার ভিত্তিতে। অবশ্যই গোপালগঞ্জ বঞ্চিত হচ্ছে না, আমরা ভুল বোঝাবুঝির শিকার। কয়েকটা সময়ের জন্য আমরা শুধু নয়জনই না, আরও বেশ কয়েকজন ছিলাম। কিন্তু আমরা ৪০ জন গেজেটভুক্ত হয়েছি আর ছয়জন ভাইয়া সম্ভবত বঞ্চিত আছেন।’
গেজেট থেকে বাদ পড়া অন্যদের বিষয়েও কারণ জানানোর অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন আমি সরকারকে এটাও অনুরোধ করব যে, ওনাদের নামে কোনো ফৌজদারি মামলা আছে কি না বা কী কারণে তারাও আসলে জানতে চান যে ঠিক কী কারণে তারা বাদ পড়েছেন—এটা যেন বলা হয়।’
দ্বিতীয় দফায় ৪০ জনকে গেজেটভুক্ত করায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বুশরা বলেন, ‘আর আমরা ৪০ জন যে গেজেটভুক্ত হয়েছি, একত্রে ৪০ জন—এটার জন্য আমার আসলে কৃতজ্ঞতার শেষ নাই। কারণ, এত দ্রুত সময়ের মধ্যে ৪০ জনকে সরকার গেজেট দিয়েছে। এটা আমার কাছে মনে হয়, এটা নতুন বাংলাদেশ।’
পরিবারের অনুভূতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার রেজাল্ট দেওয়ার পরে আমার মায়ের সঙ্গে কথা বলতে আমার প্রায় ৪০ মিনিট দেরি হয়েছিল। কারণ, আমার মা আসলে শুকরানা নামাজে বসে গিয়েছিলেন, মানতের নামাজে। তো আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া এবং আমার পরিবারও এটাই বলছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার পরিবারের লোকজনও এটাই বলছে যে এটা আসলে নতুন বাংলাদেশ। কারণ, এর আগে কখনোই আমরা দেখিনি যে কেউ গেজেটবঞ্চিত হলে এত দ্রুত সময়ের মধ্যে তাকে গেজেটভুক্ত করা হয়েছে। তো নতুন বাংলাদেশে এত দ্রুত, কোনো রকম লালফিতার দৌরাত্ম্য ব্যতিরেকে এত দ্রুত গেজেটভুক্তি সম্ভব বলে আমি মনে করি।’
এর আগে ৪৯তম বিশেষ বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও গেজেট থেকে বাদ পড়েছিলেন গোপালগঞ্জের মেয়ে বুশরা জাহান ঐশী। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। বিসিএসে বিষয়ভিত্তিক ফলাফলে ইংরেজিতে তার মেধাক্রম ছিল ১৪তম।
৩০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ফলাফলে ঐশীর আগে ও পরে মেধাক্রমে থাকা প্রার্থীদের নাম থাকলেও তার নাম ছিল না। পরে ৪৯তম বিসিএসের শিক্ষা ক্যাডারে আরও ৪০ জনকে নিয়োগ দিয়ে দ্বিতীয় দফায় প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সুপারিশের পর জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনে বুশরা জাহান ঐশীর নামও যুক্ত করা হয়।





