ঢাকা | রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬,২১ আষাঢ় ১৪৩৩

জামালপুরে ভুল প্রশ্নে ১০০ এইচএসসি পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা গ্রহণ!

জামালপুরে ভুল প্রশ্নপত্রে একশ এইচএসসি পরীক্ষার্থীর বাংলা ২য় পত্রের পরীক্ষা নেয়ার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৪ জুলাই) সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ কেন্দ্রে একটি কক্ষের নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের ২০২৫ সালের সিলেবাসের জন্য তৈরি করা প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেয়া হয়। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জামালপুর শহরের সরকারি জাহেদা সফির মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী। ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা ভাল না হওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে এর প্রতিকার দাবি করেছেন।

ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীরা জানান, পরীক্ষা শেষে সহপাঠীদের সঙ্গে প্রশ্ন মেলাতে গিয়ে তারা বুঝতে পারেন যে, অনিয়মিত ও মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত ২০২৫ সালের সিলেবাসের প্রশ্নপত্রে তাদের পরীক্ষা নেয়া হয়েছে।

পরীক্ষা কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০২৬ সালের প্রশ্নপত্রের বান্ডিলে ২০২৫ সালের সিলেবাসের ওই সব প্রশ্নপত্র ছিল। পরীক্ষার আগে প্রশ্ন দেখার সুযোগ না থাকায় একটি কক্ষে ওই সব ১০০টি প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়। পরীক্ষা শেষে পরীক্ষার্থীরা বিষয়টি জানালে বোর্ডে যোগাযোগ করা হয়। ১০০টি উত্তরপত্র আলাদাভাবে পাঠালে শিক্ষা বোর্ড নমনীয় ও সেই প্রশ্নপত্র অনুযায়ী উত্তরপত্র মূল্যায়ন করবে বলে জানিয়েছে।

কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কেন্দ্রটিতে মোট পরীক্ষার্থী ৯৬২ জন। আর অনিয়মিত ও মানোন্নয়নের পরীক্ষার্থী রয়েছে ৬৯ জন। কেন্দ্রে তাদের জন্য রয়েছে পৃথক কক্ষ ও বসার স্থান। কিন্তু শনিবার বাংলা ২য় পত্র পরীক্ষা সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত টানা ৩ ঘণ্টা সময়জুড়ে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ কেন্দ্রের ৪২০২ নম্বর কক্ষের ১০০ পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা নেয়া হয় অনিয়মিত ও মানোন্নয়নের পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নে।

নুসরাত জাহান নামে এক পরীক্ষার্থী বলেন, সারাদেশের পরীক্ষার্থীরা এক ধরনের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছে। আর আমরা একশজন পরীক্ষা দিয়েছি ভুল প্রশ্নে। আমরা পাস করবো নাকি ফেল করবো তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

এক পরীক্ষার্থীর অভিভাবক কাউসার জামালী শামীম বলেন, সারা বছর অনেক কষ্ট করে মেয়েকে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করেছি। মেয়েরাও নিজেদের মতো প্রস্তুতি নিয়েছে। অথচ পরীক্ষা পরিচালনায় দায়িত্বপ্রাপ্তদের গাফিলতির কারণে আমাদের মেয়েদের শিক্ষা জীবন ধ্বংস হয়ে গেল। আমরা এর বিচার চাই।

ভুক্তভোগী কয়েকজন পরীক্ষার্থী অভিযোগ করেন, পরীক্ষার শুরুতেই সিলেবাসের বাইরে এবং ২৫ সালের সিলেবাসের প্রশ্ন টের পেয়ে বিষয়টি কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. শওকত আলম মীর স্যারকে জানালে তিনি ধমক দিয়ে বলেন, যা পার তাই লিখ। যে কারণে পরে আর কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি। অভিভাবকদের অভিযোগ, অধ্যক্ষের গাফিলতি ও দায়িত্ব অবহেলার কারণেই একশ শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবনে চরম ক্ষতির মুখে পড়লো।

সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের অধ্যক্ষ মীর শওকত আলম বলেন, বিষয়টি জানাজানির পর আমরা বোর্ডে যোগাযোগ করি। বোর্ড থেকে বলা হয়েছে সেই ১০০ জন পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র আলাদাভাবে পাঠাতে। তাদের উত্তরপত্রগুলো নমনীয়ভাবে এবং ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র অনুযায়ী দেখা হবে।

জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) আফসানা তাসমিন বলেন, বিষয়টি ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে। বোর্ড কর্তৃপক্ষ বলেছে, যে প্রশ্নপত্রে পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেয়া হয়েছে, সেই ভিত্তিতেই উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হবে।

ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের ডেপুটি কন্ট্রোলার ও ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. কামাল হাসান বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পরীক্ষার্থীরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেই কথা বিবেচনা করে ওই প্রশ্নপত্রের আলোকেই উত্তরপত্র মূল্যায়ন করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।