ঢাকা | শনিবার, ৯ মে ২০২৬,২৬ বৈশাখ ১৪৩৩

পকেটে দিনাজপুরের টিকিট, বরিশালের কিশোর কক্সবাজারে উদ্ধার ঘিরে রহস্য

বরিশাল থেকে নিখোঁজের চার দিন পর কক্সবাজারে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার হওয়া স্কুলছাত্র সৌরভ দাশ শানকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একটি সাদা কাগজে লেখা ঠিকানা পড়তে গিয়েই সে অজ্ঞান হয়ে পড়েছিল বলে জানিয়েছে। তবে নিখোঁজ হওয়ার পর তার দিনাজপুরে ভ্রমণের প্রমাণ মেলায় পুরো ঘটনাটি ঘিরে তৈরি হয়েছে রহস্য।

বুধবার (৬ মে) রাতে কক্সবাজারের ঈদগাঁও থানা পুলিশ তাকে তার মামা ও বরিশাল পুলিশের কাছে বুঝিয়ে দেয়।

এর আগে, মঙ্গলবার (৫ মে) দিনগত রাত ২টার দিকে কক্সবাজারের একটি ব্রিজে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় দুই ব্যক্তি তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান। সৌরভ বরিশালের কালেক্টর স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং ভাটিখানা গ্রামের সজল দাশ ও মিতু দাশের ছেলে। তার বাবা সৌদি প্রবাসী।

গত শনিবার (২ মে) মায়ের নির্দেশে বিকাশ থেকে টাকা তুলে খিচুড়ি কিনতে বের হয় সে। সৌরভ বলে, ‘আমি বাসা থেকে বের হয়ে প্রথমে বিকাশ থেকে টাকা তুলি। এরপর আমাদের এলাকার একটি খিচুড়ির দোকানে অর্ডার দিয়ে সামনে হাঁটছিলাম। তখন একজন অচেনা ব্যক্তি আমার সামনে একটি সাদা কাগজ ধরে ঠিকানা পড়তে বলে। সেটি পড়ার পর থেকে আর কিছু মনে নেই। জ্ঞান ফেরার পর দেখি, আমি একটি ব্রিজের পাশে আছি। পরে এক নারী ও এক পুরুষ আমাকে দেখতে পেয়ে থানায় নিয়ে যান।’

উদ্ধার হওয়া শিশুটির পকেটে থাকা বাসের টিকিট এই নিখোঁজ রহস্যকে আরও ঘনীভূত করেছে। ঈদগাঁও থানার পরিদর্শক এ টি এম শিফাতুল মাজদার জানান, শিশুটির কাছ থেকে ব্লু-বার্ড ট্রাভেলসের ঢাকা থেকে বিরামপুরগামী দুটি বাসের টিকিট উদ্ধার করা হয়েছে। টিকিটে থাকা দুটি মোবাইল নম্বরের একটি বন্ধ এবং আরেকটি অসম্পূর্ণ।

তিনি আরও জানান, শিশুটিকে থানায় পৌঁছে দেয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। বরিশালের কাউনিয়া থানা থেকে আসা তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জিডির ভিত্তিতে শিশুটিকে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে তাদের অধীনে তদন্তাধীন। তবে রহস্য উদঘাটনে কক্সবাজার জেলা পুলিশ সব ধরনের সহযোগিতা করবে।

বুধবার রাতে বরিশাল থেকে তিন মামা কক্সবাজার থানায় পৌঁছালে সেখানে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ভাগনেকে ফিরে পেয়ে স্বজনরা বরিশালবাসী ও পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

সৌরভের মামা বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, ‘সৌরভের সঙ্গে যা ঘটেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সঠিক তদন্ত হলে ভবিষ্যতে অন্য শিশুদের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। পুলিশ প্রশাসন ও সাংবাদিকদের সহযোগিতা ছাড়া তাকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব হতো না।’

আরেক মামা দীপ্ত কুমার ঘোষ বলেন, ‘এই কয়েকদিন আমাদের পরিবার ও বরিশালবাসী চরম উদ্বেগে ছিল। কাউনিয়া থানার এসি, ওসি এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) শহীদুল ভাইয়ের আন্তরিক সহযোগিতায় আমরা সৌরভকে ফিরে পেয়েছি।’