ছাত্র অধিকার পরিষদের এক কর্মীকে কক্সবাজারে নিয়ে নির্যাতন, অপহরণচেষ্টা, জোরপূর্বক মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায় ও মাদকদ্রব্য দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগ উঠেছে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে রাজধানীর নিউ মার্কেট থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী নাইমুল হাসান জুবায়ের।
অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতার নাম সাজ্জাদ হোসেন জেমিন। তিনি ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। অভিযুক্ত অন্যরা হলেন ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য আরিয়ান ও ইমরান ফকির, বহিরাগত ইভান, সোহাগ, জুবায়ের জয়, এখলাস, সাদ হোসেন তামীম, স্বপনীল, সাওয়াদ গোসেন তাহসিন ও মাহফুজ। তারা সবাই ছাত্রদলের কর্মী ও সাজ্জাদ হোসেন জেমিনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে অভিযোগে। এর আগেও শিক্ষককে হেনস্তার অভিযোগে ছাত্রদল নেতা জেমিনকে বহিষ্কার করেছিল কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।
অন্যদিকে, অভিযোগকারী নাইমুল হাসান জুবায়ের ঢাকা কলেজ ছাত্র অধিকার পরিষদের ১ নম্বর কার্যকরী সদস্য ছিলেন। তিনি দর্শন বিভাগের ২০১৬-১৭ সেশনের শিক্ষার্থী।
নাইমুল জানান, গত ৩০ সেপ্টেম্বর ছাত্রদল নেতা জেমিনের উদ্যোগে তিনি কক্সবাজার ভ্রমণে যান। পরে ৩ অক্টোবর ভোর ৪টার দিকে তাকে ঘুম থেকে তুলে জেমিনের হোটেল কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জেমিনসহ কয়েকজন বহিরাগত তাকে গামছা দিয়ে মুখ ও হাত বেঁধে ছুরি, কাঁচি, বেল্ট, স্ট্যাম্প ও গামছা দিয়ে নির্যাতন করেন।
তিনি আরও জানান, তাকে (নাইমুল হাসান জুবায়ের) আটকে রেখে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ কয়েকজন ছাত্রদল নেতার নাম উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা স্বীকারোক্তি দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। ভোর ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়।
থানায় দেওয়া জুবায়েরের অভিযোগ অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তৈরি এবং সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে ইয়াবাসহ নেশাজাতীয় দ্রব্যের সঙ্গে তাকে জড়ানোর চেষ্টা করা হয়। একই সঙ্গে তাকে ব্ল্যাকমেইল করার উদ্দেশ্যে ভিডিও ও ছবি ধারণ করা হয় এবং সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। পরে তাকে অপহরণ করে ঢাকায় নিয়ে আসার চেষ্টা করা হলে কুমিল্লার নুরজাহান হোটেল থেকে পালিয়ে যান তিনি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কারণে ভবিষ্যতে তার ওপর আরও হামলা হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেন জেমিন বলেন, ‘ওই ছেলে ছাত্রলীগ করে। আমরা কক্সবাজার ট্যুরে যাওয়ার পর দুই দিন তার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে তার সাথে কথা বলে জানতে পারি সে ছাত্রলীগ। সে আমাদের সাথে উদ্ধত আচরণ করে। তখন আমরা তাকে ঢাকা কলেজের নিকটবর্তী থানায় হস্তান্তর করার সিদ্ধান্ত নেই। কিন্তু যাত্রা বিরতিকালে আমাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে সে পালিয়ে যায়।’
তিনি বলেন, ‘জুবায়ের কলেজের কারও প্ররোচনায় আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং থানায় মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছে। আমাকে এবং আমার সংগঠনকে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার কারণে আমি এই মিথ্যা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচার দাবি করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি তাকে শারীরিক নির্যাতন করিনি। কিন্তু আমাদের কাছ থেকে পালিয়ে গিয়ে যেখানে ছিল, সেখানে নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকতে পারে।’
এ বিষয়ে নিউ মার্কেট থানার ওসি মোহাম্মদ আইয়ুব হোসেন বলেন, ‘ভুক্তভোগী একটা অভিযোগ দিয়েছেন। আমরা তার সঙ্গে কথা বলেছি। ঘটনাটি কক্সবাজারের। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’
সার্বিক বিষয়ে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সদস্যসচিব মিল্লাদ হোসেন বলেন, ‘ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আমাদের কাছে এবং থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। বর্তমানে থানা তদন্ত করছে। তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হলে সে অনুযায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনাটি কেন্দ্রীয় সংগঠনকে অবগত করা হবে।’





