ঢাকা | বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,৯ আশ্বিন ১৪৩৩

কিশোর গ্যাং সন্দেহে কুমিল্লায় এক রাতেই আটক ৬২৪

কুমিল্লা জেলা জুড়ে কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে চালানো এক বিশেষ একযোগ অভিযানে ৬২৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত জেলার ১৮টি থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে উঠতি বয়সের কিশোরদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি পাওয়ায় সামাজিক পরিবেশ মারাত্মক বিঘ্নিত হচ্ছে। এর প্রেক্ষিতে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান (পিপিএম)-এর নির্দেশে ১৮টি থানা এলাকায় একযোগে এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে কুমিল্লা নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টসহ প্রতিটি থানা এলাকার বখাটে অধ্যুষিত ও চিহ্নিত স্থানে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি উপস্থিত থেকে তদারকি করেন।

অভিযানের অংশ হিসেবে কোতোয়ালি ও সদর দক্ষিণ থানা এলাকা থেকে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক কিশোরকে আটক করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. লুৎফর রহমান। তিনি জানান, আটককৃতদের বিষয়ে পূর্বের অপরাধে সম্পৃক্ততা যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

এদিকে, জেলাজুড়ে অভিযানের মধ্যে কুমিল্লার দাউদকান্দি থানায় হট্টগোল ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। রাত ৯টার দিকে কিশোর গ্যাং সন্দেহে আটককৃতদের ছাড়িয়ে নিতে স্বজনেরা থানায় এসে বিশৃঙ্খলা তৈরি করে এবং পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে কয়েকজন পালিয়ে যায় বলে স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দুই মিনিটের একটি ভিডিওতে আটকদের ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা ও উত্তেজনার দৃশ্য দেখা যায়।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় মর্মান্তিকভাবে খুন হন। এই হত্যাকাণ্ডের পর কুমিল্লাজুড়ে উঠতি বয়সের কিশোর গ্যাং ও বখাটেদের দৌরাত্ম্য রুখতে তীব্র জনদাবি ওঠে। মূলত সেই হত্যাকাণ্ডের জের ধরেই জেলা পুলিশ এই বৃহৎ সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে।