ঢাকা | মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬,৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

আর্জেন্টিনার হারে বিষাদময় টিএসসি, বিরোধী সমর্থকদের উচ্ছ্বাস

লিওনেল মেসিদের হারে বিষাদের নগরীতে পরিণত হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গন। তবে স্পেনের বিশ্বজয়ে আনন্দ উৎসবেরও দেখা মিলেছে কিছুটা। হতাশা, উৎকণ্ঠা, চাপা ক্ষোভ আর বেদনা—স্পেনের বিরুদ্ধে ফাইনালের প্রতিটা মুহূর্তে আর্জেন্টিনা ভক্তদের মনের প্রতীকী অবস্থা যেন এমনটাই। গগন বিদারী উল্লাসটা এদিন যেন হারিয়ে গেলো গোলকধাঁধায়।

অথচ এদিনও নিজেদের চর্তুথ শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামা মেসি-মার্তিনেজদের জন্য হাজার মাইল দূর থেকেও যথারীতি গলা ফাটিয়েছিলো আপামর বাঙালি সমর্থকরা। তবে সময় যত বেড়েছে হতাশাও তত বেড়েছে আকাশি-সাদা শিবিরে।

পুরো ম্যাচে আর্জেন্টিনা বলার মতো কিছুই করতে পারেনি। তাই এমি মার্তিনেজের একের পর এক সেভকেই লাইফলাইন ধরে এগোয় আর্জেন্টিনা। তবে ১৪ ফাইনালের পর আরও একবার অতিরিক্ত সময়ে গোল খেয়ে হৃদয় ভাঙে লিওনেল মেসিদের। কিন্তু এতে হতাশ আলবিসেলেস্তা ভক্তরা দোষ খুঁজছেন রেফারির সিদ্ধান্তে।

আর্জেন্টাইন ভক্তদের দাবি, আজকের ম্যাচে রেফারি অনেকটা পক্ষপাতিত্ব করেছেন। তাদের মতে, রেফারির বাজে সিদ্ধান্তই আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিয়েছে।

অন্যদিকে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার হারে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েছে ব্রাজিল শিবির। দীর্ঘদিন ধরে সহ্য করা জমা ক্ষোভ, ট্রল আর সমালোচনার জবাব দিতে পেরে খুশি সেলেসাও ভক্তরা।

অন্যদিকে ভক্ত-সমর্থকের সংখ্যা কম হলেও শিরোপা নির্ধারণী গোলের পর বাধভাঙা উল্লাস করে স্পেন শিবিরও। বেলজিয়াম, পর্তুগাল, ফ্রান্সের পর আর্জেন্টিনাকেও বধ করে তারা প্রমাণ করেছে তারাই শিরোপার যোগ্য দল।

ভক্তরা জানান, বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচে তাদের প্রত্যাশা ছিলো ভালো একটি লড়াইয়ের। তবে সেরকম লড়াই না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন তারা। তাদের মতে ফাইনাল ম্যাচটা স্পেন একক আধিপত্যেই জয় করেছে।

মঞ্চটা যেমন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে প্রস্তুত ছিলো আর্জেন্টিনার জন্য। তেমনি তা উদযাপনের সব আভাস ও দিয়ে রেখেছিলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গন। তবে শূন্য হৃদয় আর বুকভাঙা কষ্টে কাতর হয়েই বাড়ি ফিরতে হয় আর্জেন্টিনার সমর্থকদের।