ঢাকা | শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬,২ শ্রাবণ ১৪৩৩

ঘুষ ছাড়া মিলছে না সরকারি বিনামূল্যের বই, অভিযোগ কিন্ডারগার্টেন শিক্ষকদের

সরকারি উদ্যোগে বিনামূল্যে বিতরণ করা পাঠ্যবই পেতে ১০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার একাধিক কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষক। তাদের অভিযোগ, টাকা না দিলে নানা অজুহাতে বই দেয়া হয় না। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের শুরুতে উপজেলার ১৪৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও তালিকাভুক্ত ৩৫টি কিন্ডারগার্টেনে মোট ১ লাখ ৪০ হাজার ১৫৪টি বই বিতরণ করা হয়েছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ২৩ হাজার ১৭৬ জন এবং কিন্ডারগার্টেনে প্রায় আট হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে।

একাধিক কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষক অভিযোগ করেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো সময়মতো ও স্বাভাবিকভাবে বই পান না তারা। বই সংগ্রহ করতে গেলেই নানা কাগজপত্র, অনুমোদন ও ফাইলের অজুহাত দেখিয়ে ঘুরানো হয়। পরে শিক্ষা অফিসের এক চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীর মাধ্যমে টাকা দিলে বই দেয়া হয়।

দেবীগঞ্জ উপজেলার ভাউলাগঞ্জ এলাকার আল হেরা ইসলামী কিন্ডারগার্টেনের প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বই পাওয়ার অধিকার সব শিশুরই রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে টাকা না দিলে বই দেয়া হয় না। বাধ্য হয়েই আমরা টাকা দিয়ে বই নিয়েছি। ভবিষ্যতে আমরা কোনো টাকা দিতে চাই না।

একই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক জামির আলী বলেন, প্রতি বছর জানুয়ারিতে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। গত বছর আমি ১০ হাজার টাকা দিয়েছি। টাকা না দিলে বই দেয়া হবে না, এমন কথা বলা হয়।

শিক্ষক রেজওয়ান বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাসেবা দিয়ে আসছি। সরকারি পরীক্ষায়ও ভালো ফল করছি। অথচ প্রতি বছর বই পেতে ১০, ১৫, ২০ এমনকি ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে।

স্কলার কিন্ডারগার্টেনের প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদ বলেন, আমার প্রতিষ্ঠানের বয়স তিন বছর। বই নিতে গিয়ে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হয়েছি। শিক্ষা কর্মকর্তা সব কাজ বাবুর মাধ্যমে করতে বলেন।

একই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক আব্দুল হালিমের অভিযোগ, সরকারি বিদ্যালয়ে বই বিতরণ শেষ হওয়ার পর কিন্ডারগার্টেনগুলোকে অপেক্ষা করতে বলা হয়। পরে বিভিন্ন অজুহাতে টাকা দাবি করা হয়। তিনি বলেন, আমরা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে গেলেও তিনি বাবুর কাছে পাঠিয়ে দেন। বাবুর মাধ্যমেই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ হয়। জানুয়ারির শুরুতে বই না পেলে অভিভাবকদের কাছে জবাবদিহি করতে হয়। তাই বাধ্য হয়ে টাকা দিয়ে বই আনতে হয়।

মডার্ন আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক আহসান হাবিব বাবু বলেন, উপজেলার সব কিন্ডারগার্টেন শিক্ষা অফিস থেকেই বই সংগ্রহ করে। আমরাও সেখান থেকেই সংগ্রহ করি।

অভিযোগের বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজমল হোসেন বলেন, বই বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অর্থ লেনদেন হয়নি। কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অভিযোগে নাম আসা চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী আব্দুল মজিদ বাবুও টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইন্দ্রজীত সাহা বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।