জনসংখ্যা কোনো অভিশাপ নয়, বরং শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশের তরুণ সমাজকে যোগ্য জনশক্তিতে রূপান্তর করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। শনিবার রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ মিলনায়তনে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড এবং রাজশাহী অঞ্চলের মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবদের সাথে এক মতবিনিময় সভা শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের মাধ্যমে শুধু পরীক্ষা কেন্দ্রই নয়, এখন থেকে পর্যায়ক্রমে সাধারণ শ্রেণিকক্ষগুলোকেও নজরদারির আওতায় আনা হবে। উত্তরপত্র মূল্যায়নের মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অনেক পরীক্ষক নিজে খাতা না দেখে অন্যদের দিয়ে খাতা দেখান। এই অনিয়ম রুখতে এখন থেকে পরীক্ষার খাতার নমুনা সংগ্রহ করে তা যথাযথভাবে যাচাই করা হবে।
নকলের আধুনিকায়ন বা ডিজিটাল জালিয়াতি নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে নকলের ধরন পরিবর্তন হয়ে ডিজিটাল হয়েছে। কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংঘবদ্ধ নকল চক্রের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা পর্যায়ের শিক্ষার মান উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন যে, জেলা প্রশাসকদের সন্তানরা সাধারণত ঢাকায় পড়াশোনা করে। তবে স্থানীয় জিলা স্কুলগুলোর মান নিশ্চিত করতে জেলায় কর্মরত কর্মকর্তাদের সন্তানদের স্থানীয় স্কুলেই পড়াশোনা করার বাধ্যবাধকতা থাকা উচিত।
শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ড. মিলন আরও বলেন, যারা পড়াশোনা বাদ দিয়ে টিকটক বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় নষ্ট করে, তাদের নিয়ে সরকারের বিশেষ কোনো চিন্তা নেই।
তবে যারা নিষ্ঠার সাথে পড়াশোনা করছে, তাদের মানোন্নয়ন ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতেই সরকার সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেবে।





