ঢাকা | বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬,১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

সিন্ডিকেটে ইকসু পাশ, স্বাগত জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ইকসু) ও হল সংসদের গঠনতন্ত্র সিন্ডিকেটে অনুমোদন পেয়েছে। বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭১তম সিন্ডিকেট সভায় এটি পাস হয়। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দরাও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীরা গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখছেন। শিক্ষার্থীরা এই উদ্যোগের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সাধুবাদ জানিয়েছে। পাশাপাশি গঠনতন্ত্র প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত অংশগ্রহণ না থাকা এবং ভবিষ্যতে ইকসুর স্বচ্ছতা ও দলীয় প্রভাবমুক্ততা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন তারা। শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা— ইকসু যেন একটি জবাবদিহিমূলক, অরাজনৈতিক মঞ্চ হয়ে ওঠে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক সিদ্ধান্তে তাদের মতামত নিশ্চিত করা হয়।

অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী নাইমুর রহমান বলেন, ‘সিন্ডিকেটে ইকসুর গঠনতন্ত্র অনুমোদনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছাত্ররাজনীতিতে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছে। এটি শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। ইকসু নির্বাচন বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক চর্চা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি দায়িত্বশীল ও কল্যাণমুখী নেতৃত্ব তৈরি হবে— যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক অগ্রগতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’

সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী খাদিজাতুল খুবরা বলেন, ‘ইকসু শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি নির্বাচন করার মূল প্ল্যাটফর্ম। বর্তমান সমস্যা যেমন সেশনজট, আবাসন সংকট, খাবারের মান, নিরাপত্তা ও প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ ঘাটতি— ইকসু নির্বাচনের মাধ্যমে কিছুটা সমাধান সম্ভব। সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দলীয় প্রভাবমুক্ত নির্বাচন শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।’

রাষ্টবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সাইফুন্নাহার লাকী বলেন, ’ইকসু যেন ক্যাম্পাস কেন্দ্রীক শিক্ষার্থীদের সার্বিক প্রয়োজন, একাডেমিক ও সাংস্কৃতিক সমস্যা সমাধানের একটি স্বচ্ছ ও অরাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হয়। তবে গঠনতন্ত্র প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত অংশগ্রহণ না থাকা এবং ভবিষ্যৎ স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ইকসুসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল একাডেমিক সিদ্ধান্তে (যেমন এমফিল প্রোগ্রাম) শিক্ষার্থীদের মতামত নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ শিক্ষার্থীরাই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান স্টেকহোল্ডার। ইকসুর সাফল্য নির্ভর করছে এর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ওপর।’

ছাত্র ইউনিয়ন ইবি সংসদের সভাপতি নুর আলম বলেন, ‘সিন্ডিকেটে গঠনতন্ত্র পাশ হয়েছে এটি আশার দিক। আমরা চাই, অন্যান্য যেসব প্রক্রিয়া রয়েছে, শীঘ্রই সেগুলো শেষ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে ইকসু বাস্তবায়ন হোক।’

ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের ইবি শাখার সভাপতি ইসমাইল হোসেন রাহাত বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের পর থেকেই আমরা ইকসুর দাবি করে আসছিলাম। কারন জবাবদিহিতা, শিক্ষার্থীদের অধিকার, একাধিপত্য দূরীকরণ এবং সুন্দর ক্যাম্পাস বিনির্মানের জন্য ছাত্র সংসদের বিকল্প নেই। সিন্ডিকেটে গঠনতন্ত্র পাস হয়েছে। এটিকে আমরা অবশ্যই এপ্রেশিয়েট করি। তবে শুধু এতটুকু করে বসে থাকলে চলবে না। প্রশাসন পরবর্তী কতদিনের মধ্যে বাকি কার্যক্রম শেষ করে নির্বাচন দিবে তার রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে।’

শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য নুর উদ্দিন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইতোমধ্যে ইকসুর একটি গঠনতন্ত্র সিন্ডিকেটে পাস করেছে। এটি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে প্রশাসন সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উন্মুক্ত আলোচনা ও মতবিনিময় না করেই গঠনতন্ত্র চূড়ান্ত করায় নানা বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি— সকল শিক্ষার্থীর মতামত ও দাবি বিবেচনায় নিয়ে একটি সুন্দর, গ্রহণযোগ্য ও আধুনিক গঠনতন্ত্র চূড়ান্ত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ইকসু নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করা হোক।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সহ-সমন্বয়ক গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ বাস্তবায়নের জন্য দীর্ঘদিন ধরে আমরা লড়াই করে আসছি। আশা করবো গঠনতন্ত্র তৈরির মতো ধীরগতিতে যেন ইউজিসিতে না যায়। নভেম্বরের মধ্যে যেন ইকসু নির্বাচন বাস্তবায়ন করা যায় ঠিক সেই সময়ের মধ্যে গঠনতন্ত্রটি পাশ হয়ে আসুক এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

শাখা শিবির সভাপতি মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্লাটফর্ম হচ্ছে ছাত্র সংসদ। আমাদের দীর্ঘদিনের দাবির পর প্রশাসন দেরিতে হলেও গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করেছে এজন্য ধন্যবাদ জানাই। আমরা প্রশাসনকে বলবো শুধু ইউজিসিতে পাঠালেই চলবে না, সবসময় যোগাযোগ রেখে, চাপে রেখে দ্রুত অনুমোদন নিয়ে আসতে হবে। এছাড়া গঠনতন্ত্র অনুমোদন হওয়ার পর খুব শীঘ্রই স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে।’

উল্লেখ্য, ইকসুর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ২৫টি পদ থাকবে, যার ২৩টি সরাসরি নির্বাচিত হবে। সভাপতি ও কোষাধ্যক্ষ হিসেবে যথাক্রমে উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ দায়িত্ব পালন করবেন। হল সংসদে ১৫টি পদ, যার ১৩টি নির্বাচিত হবে। ভোটার ও প্রার্থী শুধুমাত্র পূর্ণকালীন শিক্ষার্থী। এমফিল শিক্ষার্থীদের বয়সসীমা ৩০ বছর এবং তারা একবার ভোট বা প্রার্থী হতে পারবে। সান্ধ্যকালীন, এক্সিকিউটিভ ও ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীরা অযোগ্য। সিন্ডিকেট অনুমোদনের পর এটি রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।